Translate Your Language Easy View Post

শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

একটা সন্তানের জীবনে কার ভুমিকা বেশী কিংবা কার কম এটা নিতান্তই একটা অপোসহীন প্রশ্ন।

একটা সন্তানের জীবনে কার ভুমিকা বেশী কিংবা কার কম এটা নিতান্তই একটা অপোসহীন প্রশ্ন।
নিঃসন্দেহে বাবা আর মায়ের মধ্যে কোন তুলনা চলে না।
সন্তানের জীবনে একজন বাবা ভুমিকা মায়ের চেয়ে অনেক বেশী।
একটা সন্তান একটু বুঝতে শিখার পর মায়ের ভুমিকা অনেকটাই কমে আসে কিন্তু জন্ম থেকে শুরু করে একজন সন্তানের ভবিষত্‍ গড়া পযর্ন্ত বাবা ভুমিকা দিন বেড়েই চলে।
যদিও বেশীর ভাগ সময় আমার খুব কাছ থেকে বাবার ভালোবাসা ও আদর স্নেহ পাই না, তবে তা দূরের সূর্ষ্যের মত দীপ্তিমান থাকে সন্তানের উপর।
সূর্ষ্য যেমন খুব কাছ থেকে তার দীপ্তি ছড়ায় না কিংবা আমরা সহ্য করতে পারবো না ঠিক তেমনি বাবার ভালোবাসা ও আদর স্নেহ এত বেশী প্রখর যে খুব কাছ থেকে তা পেলে আমরা সহ্য করার সামর্থ্য নেই।
যদি পৃথিবীতে কোন নিঃস্বার্থ ব্যক্তি থাকে তবে তা হলো বাবা কারন মায়ের মাঝেও স্বার্থ জড়িত থাকে।
বাবা বাস্তবাদী, মা আবেগময়ী, মায়াময়ী ও মমতার আঁধার বলে আমরা সবর্দা মাকেই সমর্থন করি কিন্তু বাবার চিন্তা চেতনা সবর্দা আমাদের জন্য মঙ্গলকর।
বাবা দিবসে পৃথিবীর সকল বাবার প্রতি রহিল আমার অসীম শ্রদ্ধা।

আপনার নামের আদ্যক্ষর অনুসারে আপনার রাশি, নিচে দেখুন …

আপনার নামের আদ্যক্ষর অনুসারে আপনার রাশি, নিচে দেখুন …

  • অ,আ,ল = মেষ রাশি
  • উ,ঊ,ই,এ,ও,ব = বৃষ রাশি
  • ক,ঘ,ঙ,ছ = মিথুন রাশি
  • ড,হ = কর্কট রাশি
  • ম,ট = সিংহ রাশি
  • ঠ,প,ব,ন = কন্যা রাশি
  • র,ত = তুলা রাশি
  • ন,য = বৃশ্চিক রাশি
  • ধ,ড,ফ,ড়,ঢ় = ধনু রাশি
  • খ,জ = মকর রাশি
  • গ,শ,ষ,স = কুম্ভ রাশি
  • চ,ঞ,ঝ,থ,দ = মিন রাশি

কোন রাশির মেয়েরা কেমন? জেনে নিন(প্রথম পর্ব)

কোন রাশির মেয়েরা কেমন? জেনে নিন(প্রথম পর্ব)

মেষ (মার্চ ২১-এপ্রিল ১৯)
জীবনের সব ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে পছন্দ করে মেষ রাশির নারী। সহজাত নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতা থাকে তাদের। সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার প্রবণতা দেখা যায় তাদের মাঝে। প্রতিটা দিন কর্মচঞ্চল করে রাখার ব্যাপারে তাদের জুড়ি নেই। কখনও কখনও নিজের ক্ষমতার বেশি কাজের ভার নিয়ে ফেলে তারা।
অনেক সময়ে একটা কাজ শেষ না করেই আরেকটা শুরু করে দেয়। জীবনের ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে থাকেন মেষ রাশির জাতিকা। একটা ভালো কাজ করার সুযোগ পেলে তারা সেটা করে ফেলবে, এতে তার নিজের কতখানি লাভ হলো সেটা নিয়ে চিন্তা করবে না। নিজের মতামত জানানোর ব্যাপারে একেবারেই ঠোঁটকাটা তারা। কখনও কখনও মেষ নারী এতই সফল হয়ে থাকে যে অন্যরাও তার মতো হতে চায় (যদিও পেরে ওঠে না)।
প্রেমের ক্ষেত্রে মেষ নারী কেমন হয়? মেষ রাশির প্রতীক চালিত হয় আগুনের উপাদানে। এ থেকেই বোঝা যায়, মেষ নারীর প্রেমও হয় তেমনই উষ্ণ। প্রেমের ক্ষেত্রে মেষ নারী নিজেই উদ্যগ নিয়ে থাকতে পারে কিন্তু তার সঙ্গীকেও হতে হয় শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। সঙ্গী পুরুষের ব্যক্তিত্ব দুর্বল হলে খুব দ্রুত আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন মেষ নারী। মেষ নারীর সাথে তর্ক হলে তেমন বিচলিত হবেন না। এই তর্কের মাধ্যমেও সম্পর্ক পোক্ত হয়ে উঠতে পারে।

বৃষ (এপ্রিল ২০- মে ২০)
প্রথম দেখায় বৃষ নারীকে মনে হবে খুব শান্তশিষ্ট, মিষ্টি প্রকৃতির। সাধারণত তিনি আপনার সাথে এমন মিষ্টি আচরণই করবেন, কিন্তু রেগে গেলে তবেই তার আসল রূপ দেখতে পাবেন। বৃষ নারীর চরিত্রের "সুগার কোটিং"-এর নিচে রয়েছে আগুনে মেজাজ। এর আওতায় না পড়ার চেষ্টা করুন। তবে ভালোবাসার ছোট্ট ছোট্ট উপহার পেতে পছন্দ করেন বৃষ নারী। তাকে উৎসর্গ করতে পারেন নিজের তৈরি একটি কবিতা অথবা অন্যরকম কিছু ফুল, সাথে অবশ্যই আন্তরিক অনুভুতি। রাগ গলে পানি হয়ে যাবে।
বৃষ নারীর অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো, তারা হয়ে থাকে খুবই একগুঁয়ে। কোনো কিছু পাওয়ার জন্য কোমর বেঁধে লাগেন তারা। মানসিক শক্তির দিক দিয়েও তারা যথেষ্টই কঠোর। তবে যতই কঠোর হোক না কেন, তারা যথেষ্ট মমতাময়ী হয়ে থাকেন।
বৃষ নারী হয়ে থাকেন বিচক্ষণ এবং ধৈর্যশীল। এ কারণে তার সফলতা আসে প্রচুর। বৃষের উপাদান হলো মৃত্তিকা, আর তাই তার মাঝে মাতৃসুলভ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে শান্তিতে থাকতেই পছন্দ করেন বৃষ নারী। জীবনে নিরাপত্তার অনুভুতি পেতেও তিনি পছন্দ করেন। সাধারণত বৃষ নারী একই ভুল বার বার করেন না।
ভালোবাসার ক্ষেত্রে ধীরস্থির এবং মিষ্টি ভাব নিয়ে অগ্রসর হোন বৃষ নারীর দিকে। একটু সময় নিয়ে সম্পর্ক গড়ে তুলতে তারা পছন্দ করেন। প্রেমের ক্ষেত্রে তাকে তাড়া না দেওয়াই ভালো। কিছু সীমানা মেনে চলেন তারা। এবং সঙ্গীরও উচিত এই সীমানাকে শ্রদ্ধা করে চলা।

মিথুন (মে ২১- জুন ২১)
একজন মিথুন নারীকে বুঝে ওঠা বেশ কঠিন। আকাশের মেঘ ধরে রাখা যেমন কঠিন, মিথুনের মন বোঝাও তেমনি কঠিন। কারণ একজন নয়, তার মাঝে দেখতে পাবেন বহু নারীর ছায়া। কেউ কেউ মিথুন নারীর চরিত্রে বিরক্ত হতে পারেন, কিন্তু তারা নিজেদের ব্যক্তিত্বে স্বতন্ত্র। ক্ষণে ক্ষণে তার মাঝে পরিবর্তন আসতে পারে। পৃথিবীর সব কিছু নিয়ে তার মাঝে কৌতূহলের শেষ নেই। অনেক ক্ষেত্রেই সৃজনশীলতা দেখা যায় তার মাঝে। আশাবাদী মনোভাব থাকার কারণে যে কোনো পরিস্থিতিতে তিনি মানিয়ে নিতে পারেন।
মিথুন রাশির প্রতীকে রয়েছে একটি নয়, বরং দুইটি সত্ত্বা। মিথুন রাশির জাতিকার ব্যক্তিত্বে একটি নয়, বরং দুই বা তারও বেশি স্বাতন্ত্র্য দেখা যায়। এর ফলে তার ব্যক্তিত্ব অস্থিতিশীল মনে হতে পারে।
প্রেমের ক্ষেত্রে একটু খুঁতখুঁতে হতে পারেন মিথুন নারী। তবে তিনি নিজের পছন্দের সেই ভাগ্যবান ব্যক্তিকে খুঁজে পেলে তখন আর কোনও রকমের সংকোচ করেন না নিজের অনুভূতি প্রকাশে। আর এই সম্পর্ক সাধারণত হয়ে থাকে দীর্ঘস্থায়ী।

কর্কট (জুন ২২- জুলাই ২২)
কর্কট নারীর চরিত্রে চাঁদের প্রভাব প্রবল। চাঁদের কলা বাড়া-কমার মতই ওঠানামা করে কর্কট নারীর মেজাজ। সাধারণত তিনি যথেষ্ট সহজ সরল এবং শান্তিপ্রিয়। তবে তার অনুভুতি হতে পারে অনেক অনেক জটিল। সবগুলো রাশির মাঝে কর্কট নারীর বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করা সবচাইতে কঠিন। এরা হয়ে থাকে খুব খুব স্পর্শকাতর। বিশেষ করে কর্কট নারীকে সমালোচনা করার ব্যাপারে খুব সাবধান থাকুন। এই সমালোচনা তারা সারা জীবন মনে রাখবে।
বুদ্ধির পাশাপাশি কর্কট নারীর অনুমানশক্তিও হয় খুব প্রখর। কোনও ব্যক্তির ব্যাপারে খুব কম জেনেও সে আসলে ভালো না খারাপ তা ধারনা করে নিতে পারে কর্কট নারী এবং এই ধারনা সাধারণত ঠিক হয়ে থাকে। অন্যদের ব্যাপারে সহানুভূতি দেখাতেও কর্কট নারী সিদ্ধহস্ত।
প্রেমের ব্যাপারে কর্কট নারীকে একটু সময় দিতে হবে। হুট করে তারা প্রেমে জড়িয়ে পড়তে নারাজ। সঙ্গীকে তারা বিশ্বাস করতেও সময় নেন। এছাড়া খুব সহজেই কষ্ট পান তারা। এসব কারণে সম্পর্কের প্রাথমিক পর্যায় একটু ঝড়ো হলেও পরবর্তী পর্যায়ে সম্পর্ক অনেক মিষ্টি হয়ে ওঠে।

সিংহ (জুলাই ২৩- অগাস্ট ২২)
এই রাশির নারীর মাঝে সিংহের বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। তারা আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকেন সাধারণত। তাকে না ঘাঁটানোই ভালো। নাখোশ হয়ে গেলে উপহার এবং মিষ্টি মিষ্টি কথা দিয়ে তাকে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে আগে। তারা যেমন বুদ্ধিমতী হয়ে থাকেন, তেমনি শক্তিশালী চরিত্র এবং সৃজনশীলতা দেখা যায় তাদের মাঝে।প্রেমের ক্ষেত্রে এই রাশির নারী কোনও রকমের ছাড় দিতে রাজী হন না। তাকে খুশি করতে পারলে আপনার সম্পর্ক হয়ে উঠতে পারে প্রেমের গল্পের মতই রোমান্টিক এবং একই সাথে ড্রামাটিক। সঙ্গীর জীবনে তিনি হয়ে থাকতে চান সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং একই সাথে সঙ্গীকে তার প্রাপ্য গুরুত্ব দিতেও তিনি পিছ পা হন না।

চলতি সপ্তাহটি কেমন যাবে? জেনে নিন পরামর্শ :-

চলতি সপ্তাহটি কেমন যাবে? জেনে নিন পরামর্শ :-

>মেষ (মার্চ ২১ – এপ্রিল ১৯)
চট করে কোনো নতুন যন্ত্রপাতি অথবা কোনো বুলির ব্যবহার শিখে ফেলাটা আপনার বেশ উপকারে আসবে এই সপ্তাহে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন পরিস্থিতি “ম্যানেজ” করার যে গুনটি রয়েছে আপনার, সেটাও কাজে লাগবে। যত বেশি মানুষ নিজের দলে টানতে পারেন, তত ভালো। সপ্তাহের শেষে কিছুটা হতাশা কাজ করতে পারে আপনার মাঝে, একে বেশি গুরুত্ব দেবেন না।

>বৃষ (এপ্রিল ২০- মে ২০)
সপ্তাহের শুরুতে আপনার মনে হতে পারে পৃথিবীটা একেবারেই বাজে। কেবল আপনার সাথেই ভাগ্য তামাশা করছে, আর বাকিদের উপহার দিচ্ছে চমৎকার সব সময়। তবে এই অনুভূতি বেশিক্ষণ থাকবে না। মঙ্গলবারের মধ্যেই আপনার এই অনুভূতি উবে গিয়ে আত্মবিশ্বাসে রূপান্তরিত হবে। অপরিচিত মানুষজন এ সময়ে আপনার মেজাজ খারাপ করে সাইট পারে, তবে এদিকে বেশি মন দেবেন না। মন বেশি খারাপ হলে সপ্তাহের শেষ বন্ধুদের সময় দিন।

>মিথুন (মে ২১- জুন ২১)
আপনার জীবন এ সপ্তাহে এমন কিছুর মুখোমুখি হবে যা ছিলো আপনার পরিকল্পনার বাইরে। পরিবার অথবা কর্মক্ষেত্রের কেউ আপনার ওপরে খবরদারী ফলাতে আসতে পারে। সেটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হবে না এবং তাদের কোথায় সায় দিয়ে যাওয়াই ভালো, তারা কিছুক্ষণ পর নিজেরাই উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। নতুন নতুন আইডিয়া আপনার মাথায় আসতেন পারে এই সপ্তাহে। নিজের জীবনে কোনো পরিবরতনা আনার ইচ্ছে হতে পারে আপনার। সেটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাস্তবায়ন শুরু করুন।

>কর্কট (জুন ২২- জুলাই ২২)
এ সপ্তাহে নিজের জন্য ভালো কিছু করুন। আর আপনার উপকার হবে না অথচ অন্য কেউ আপনার পরিশ্রমের সুফল পাবে, এমন ত্যাগ স্বীকার করার দরকার নেই মোটেই। অন্যদের সাথে আপনার অনুভূতির মিল নাও হতে পারে এই সপ্তাহে। সপ্তাহের শেষে সৃজনশীল কিছু করুন।

>সিংহ (জুলাই ২৩- অগাস্ট ২২)
এ সপ্তাহে আপনার মেজাজ একটু খিঁচড়ে থাকতে পারে। নিজেকে একটু নিয়ন্ত্রণ করে চলুন। তবে মেজাজ ভালো হয়ে উঠবে শীঘ্রই। অন্যদের সাহায্য করার প্রচুর সুযোগ পাবেন আপনি, সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে ফেলুন। সপ্তাহের শেষে একটি অন্যরকম সুযোগ আসতে পারে, তবে ভালোমতো যাচাই না করে সে পথে পা বাড়াবেন না।

>কন্যা (অগাস্ট ২৩- সেপ্টেম্বর ২২)
কাজ বা পারিবারিক ব্যাপারে একটু বন্দী মনে হতে পারে নিজেকে। কিন্তু সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে নিজের স্বাধীনতা ফিরে পাবেন আপনি। নিজের রুটিন বজায় রেখে কাজ করতে একটু সমস্যা হতে পারে এই সপ্তাহে। সপ্যতাহের শেষ অন্যদের আলসেমি হয়ে উঠতে পারে আপনার বিরক্তির কারণ।

>তুলা (সেপ্টেম্বর ২৩- অক্টোবর ২২)
সপ্তাহের একদম শুরুতে নতুন কিছু করার ইচ্ছে হতে পারে আপনার। নিজের মনের এই ইচ্ছেকে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করুন। সপ্তাহের মাঝামাঝি গিয়ে কোনো একটি কাজে আটকে যেতে পারেন আপনি। তবে অন্যদের সাথে আপনার সম্পর্ক বেশ ভালো থাকবে, সুতরাং সপ্তাহটি তেমন খারাপ যাবে না।

বৃশ্চিক (অক্টোবর ২৩- নভেম্বর ২১)
জীবনের স্রোত আপনাকে যেদিকে নিয়ে যেতে চায়, সেদিকেই যান। এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ক্লান্ত হবার কোনো দরকার নেই, তবে থাকুন একটু সতর্ক। সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে আপনার ক্যারিয়ার বেশ ভালো অবস্থায় থাকবে। সপ্তাহের শেষের দিকে কাছের কারণ থেকে এমন কোনো সংবাদ আসতে পারে, যা প্রথম প্রথম ভালো না লাগলেও পরে আপনি নিজেই তাকে ইতিবাচক দিকে মোড় নেওয়াতে পারবেন।

ধনু (নভেম্বর ২২- ডিসেম্বর ২১)
পুরো মাস- এমনকি পুরো বছরের চাইতে ভালো মেজাজে আপনি থাকতে পারেন এই সোমবারে। নিজের শৈল্পিক দিকের চর্চা করলে এই ভালো মেজাজ আরও বেশি সময় টিকবে। একেবারে নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন। আপনার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে- এমন এক বা একাধিক মানুষের দেখা পেতে পারেন আপনি এই সপ্তাহে। তবে নিজের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলো যত্নে রাখুন, কিছু একটা হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

মকর (ডিসেম্বর ২২- জানুয়ারি ১৯)
সপ্তাহ শুরু করুন সতর্কতা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে। আপনি যদি নিজের লক্ষ্য এবং লক্ষ্যে পৌঁছানর সব খুঁটিনাটি ঠিক করে রাখেন তবে আপনাকে আটকানোর ক্ষমতা কার আছে? পুরনো সব আকজ শেষ করা এবং নতুন কাজে হাত দেওয়ার এটাই সময়। পুরনো পরিকল্পনা বিসর্জন দিয়ে নতুন আইডিয়ার পেছনে দৌড়াবেন না এই সপ্তাহে, আমও যাবে ছালাও যাবে! অন্য কারণ সাহায্য না পেলে মন খারাপ করবেন না, আপনি একাই সব কাজ করে ফেলতে পারবেন, আর তার জন্য দরকার হলে কাজের সময়ে নিজের পছন্দের গান আপনাকে সঙ্গ দিতে পারে।

কুম্ভ ( জানুয়ারি ২০- ফেব্রুয়ারি ১৮)
সপ্তাহের শুরুতেই আপনার জীবনে বড় কোনো পরিবর্তন আসতে পারে, তা হতে পারে এক বা একাধিক। চিন্তিত হবেন না। এর বেশিরভাগ ভালোর দিকে যাবে। আর এই কারণে আপনার চিন্তাধারাও নতুন মোড় নিতে পারে। একটু রহস্যময় মনে হতে পারে এই সপ্তাহের ঘটনাগুলো। মনে হবে আড়াল থেকে কেউ খুব যত্নে কলকাঠি নাড়ছে। নমনীয় থাকুন, যা ঘটবে তা নিয়ে বেশি বিচলিত হবেন না। তবে কতটা খরচ করছেন, কি কাজে খরচ করছেন তার ব্যাপারে একটু সাবধান থাকুন এই সপ্তাহে।

মীন ( ফেব্রুয়ারি ১৯- মার্চ ২০)
নিজের চোখ কান খোলা রেখে চলুন এই সপ্তাহে। সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে এমন কিছু আপনার নজরে আসতে পারে যা আপনার আশেপাশের অন্যদের অনেক উপকারে আসবে। সপ্তাহ শেষ হতে হতে বিভিন্ন কাজে আপনার মাথা পুরোই ক্লান্ত হয়ে থাকবে। একে একটু বিরতি দিন। বর্তমান সময়ের থেকে আপনার মন অন্য দিকে সরিয়ে নিন কিছু সময়ের জন্য। সপ্তাহের শেষটা যাবে চমৎকার।

শারীরিক উচ্চতা হতে জেনে নিন নিজের সম্পর্কে চমকপ্রদ ৫ তথ্য

শারীরিক উচ্চতা হতে জেনে নিন নিজের সম্পর্কে চমকপ্রদ ৫ তথ্য

১>মানুষের জীবনমৃত্যু সবই জীবনের নিয়মে ঘটে। কখনো দুর্ঘটনাবশত মৃত্যু ঘটে থাকে অনেকের। কিন্তু সাধারণভাবে বিজ্ঞানের ভাষায় বলতে গেলে লম্বা মানুষের তুলনায় খাটো মানুষ বেশিদিন বাঁচেন। বিজ্ঞানীরা মানুষের ওপর গবেষণা করে দেখেন যে খাটো মানুষ যাদের উচ্চতা ৫ ফিট ৪ ইঞ্চির নিচে তারা লম্বা মানুষের তুলনায় গড়ে প্রায় ২ বছর বেশি সময় বেঁচে থাকেন। এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা বলেন লম্বা মানুষের ডিএনএ খাটো মানুষের তুলনায় দ্রুত ড্যামেজ হয়ে যায়। এবং লম্বার কারণে শরীরে খুব দ্রুত টিস্যুর স্থানের পরিবর্তন হয় যা জীবনের আয়ু কমিয়ে দেয়। এই গবেষণা লম্বা এবং খাটো মহিলা এবং পুরুষ উভয়ের জন্য।

২>মানুষ কথায় কথায় বলেন ‘লম্বা মানুষের বুদ্ধি হাঁটুতে থাকে’ অর্থাৎ সবার মতে লম্বা মানুষের বুদ্ধি কম থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এর পুরোপুরি বিপরীতে। ২০০৬ সালের ‘প্রিন্সেটন ইউনিভার্সিটির’ গবেষকগণ তাদের গবেষণায় দেখতে পান লম্বা মানুষ খাটো মানুষের তুলনায় মাথায় বেশি বুদ্ধি রাখেন। কিন্তু মূল ব্যাপার হলো খাটো মানুষের তুলনায় লম্বা মানুষ একটু কূটবুদ্ধি কম বোঝেন। ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডোর গবেষকগণ একই ধরণের গবেষণার রিপোর্ট দেন।

৩>ইউনিভার্সিটি অফ সিডনীর গবেষকগণ তাদের গবেষণা প্রায় ২০,০০০ মানুষের ওপর চালিয়ে দেখেন লম্বা মানুষেরা খাটো মানুষের তুলনায় জীবনে বেশি আয় উন্নতি করে থাকেন। লম্বা মানুষের জীবনে অনেক উন্নতি আসে। তারা গবেষণায় বের করেন উচ্চতার ভিত্তিতে টাকাপয়সা আয়ের পরিমাণ কমতে থাকে।

৪>বায়োলজিক্যাল সাইকোলজি নামক বইয়ে সাইকোলজিস্ট ডঃ নিক বলেন’লম্বা মানুষের তুলনায় খাটো মানুষের জীবনসঙ্গী হিসেবে চাহিদা অনেক কম, কিন্তু লম্বা মানুষের তুলনায় খাটো মানুষ জীবনসঙ্গী হিসেবে বেশি ভালো এবং বিশ্বস্ত হয়’। লম্বা মানুষের মধ্যে সামান্য মানসিক চাপে নিজের জীবনসঙ্গীকে ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা দেয়। কিন্তু খাটো মানুষেরা নিজের জীবনসঙ্গীর ব্যাপারে অনেক বেশি অনুভূতিশীল হয়ে থাকেন। এই তথ্যটি নারী এবং পুরুষ উভয়ের জন্য।

৫>ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডঃ মিরিয়াম ল স্মিথ বলেন লম্বা মানুষেরা জীবনের লক্ষ্যের ব্যাপারে অনেক বেশি নিষ্ঠাবান থাকেন। তারা নিজেদের জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য পেছনে ফিরে দেখেন না। ডঃ স্মিথ এর মতে এটি লম্বা মানুষের সাইকোলজিক্যাল মাইন্ড যা দেহের ওপর নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। লম্বা নারীরাও নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে বেশ নিষ্ঠার সাথে কাজ করে চলেন যেখানে একজন খাটো নারী নিজের সংসার নিয়ে ভাবতে থাকেন। স্টিরলিং ইউনিভার্সিটির গবেষকগণ এই তথ্য প্রকাশ করেন।

কোন রাশির মানুষ কেমন মা-বাবা হয়ে থাকেন?

কোন রাশির মানুষ কেমন মা-বাবা হয়ে থাকেন?

মেষ (মার্চ ২১ – এপ্রিল ১৯)
সব বিষয়েই আপনার উৎসাহ বেশি এবং অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রেও তা সত্যি। এ কারণে আপনি নিজের সন্তানকে উৎসাহ দিতেও পটু। বাড়িতে এবং স্কুলে তারা যেন ভালো সময় কাটাতে পারে তার চেষ্টা করেন আপনি। তবে কম বয়সে বাব/মা হলে আপনি বাচ্চাদের দুষ্টুমি সহ্য করার ক্ষেত্রে একটু অধৈর্য হয়ে উঠতে পারেন। তবে শীঘ্রই এ সমস্যা কেটে যায়। মেষ মা সাধারণত অন্য সব কাজের চাইতে বাচ্চার জন্য বেশি সময় ব্যয় করেন।

বৃষ (এপ্রিল ২০- মে ২০)
শৈশবে নিজে যে সব সুযোগ-সুবিধা পাননি, নিজের বাচ্চাকে সেসব দেওয়ার চেষ্টা করেন বৃষ অভিভাবক। তিনি হয়ে থাকেন বেশ নিয়মানুবর্তী, কিন্তু তাই বলে সন্তানকে স্নেহ দেবার ব্যাপারে কার্পণ্য নেই তার। তারা মাঝে মাঝে বাচ্চার পেছনে অতিরিক্ত খরচ করে ফেলেন। তবে সন্তানের শিক্ষার পেছনে যদি সেই খরচটা যায়, তবে তাতে কোনও ক্ষতি নেই।

মিথুন (মে ২১- জুন ২১)
অভিভাবক হিসেবে আপনি প্রাণবন্ত এবং সুবিবেচক। নতুন নতুন আইডিয়া দিয়ে বাচ্চাদের ব্যাস্ত রাখতে পারেন আপনি। তবে সবসময় বাচ্চাদের মাঝে থাকতে কিছুটা বিরক্ত লাগতে পারে আপনার। সাধারণত বাচ্চার দেখাশোনা এবং কাজ সব একসাথে ম্যানেজ করতে অসুবিধে হয় না আপনার। আপনার বাচ্চারা সাহারন্ত আপনার মনোভাব বুঝতে পারে এবং সেভাবেই আচরণ করে। বাবা হিসেবে ভালো হয়ে থাকেন মিথুন, কারণ বয়স যতই হোক তার মন থাকে চির তরুণ।

কর্কট (জুন ২২- জুলাই ২২)
কর্কটেরা অসাধারণ হয়ে থাকে অভিভাবক হিসেবে। সন্তানের যত্ন নেবার ব্যাপারে তারা নিবেদিতপ্রাণ। তবে মাঝে মাঝে বেশি নজরদারি করে থাকেন তারা। আবেগের বশে সন্তানদেরকে নিজের আচলে বেঁধে না রেখে আরেকটু স্বাধীনতা দেওয়া প্রয়োজন।

সিংহ (জুলাই ২৩- অগাস্ট ২২)
সিংহ হলো সেই রাশি যা পিতৃত্বের প্রতীক। তিনি সন্তানের জন্য যথেষ্ট শিক্ষামূলক কাজ করতে উৎসাহী। আপনি বাচ্চাদের উৎসাহ দিতে ভালোবাসেন কিন্তু কখনো কখনো আপনার প্রত্যাশার চাপে পিষে যেতে পারে বেচারা। নিজের প্রত্যাশা তাদের ওপরে চাপিয়ে দেবেন না। তাদেরকে গড়ে তুলতে পারেন সহজ-সরল এবং সৎ মানুষ হিসেবে।

কন্যা (অগাস্ট ২৩- সেপ্টেম্বর ২২)
কন্যা রাশির মানুষ সাধারণত পরিবার পরিকল্পনায় বিশ্বাসী হয়ে থাকে। অভিভাবক হিসেবে খুব মমতাময় হয়ে থাকেন তারা। তিনি ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন সন্তানকে। সন্তান যেন জীবনে কোনো ভালো অভিজ্ঞতাই না হারায়, তার দিকে তিনি নজর রাখেন। কম বয়সেই বাচ্চাদের পড়াশোনা শুরু করতে পছন্দ করেন তারা। তবে তাদের উচিৎ নিজের জন্যেও কিছু সময় রাখা নয়তো সন্তানের পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত হয়ে যাবেন।

তুলা (সেপ্টেম্বর ২৩- অক্টোবর ২২)
বেশ হালকা মেজাজের অভিভাবক হয়ে থাকেন তুলা। সন্তানের সাথে বেশি কঠোর হন না তারা। কিন্তু এর পরেও নিজের সন্তানকে সামাজিক মূল্যবোধ ঠিকই শেখাতে পারেন। সংসারে ঝামেলা পছন্দ করেন না তারা এবং সন্তান বেশি বায়না ধরলে শুধুমাত্র শান্তি বজায় রাখার জন্য “হ্যাঁ” বলে দেন। আপনি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেন, যেটা আপনার সন্তানদের জন্য হয়ে উঠতে পারে বিরক্তিকর। বাচ্চদের সব আবদার মেটাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন আপনি কখনো কখনো।

বৃশ্চিক (অক্টোবর ২৩- নভেম্বর ২১)
বাচ্চারা আজেবাজে কাজে নিজেদের সময় এবং সম্ভাবন নষ্ট করছে এমনটা দেখতে চান না আপনি। এ কারণে হয়ে থাকেন বেশ কঠোর এবং মেজাজি। তাদের নিজেদের জীবনের চাইতে যে সন্তানের জীবন আলাদা এটা বুঝে উঠতে চান না তারা।

ধনু (নভেম্বর ২২- ডিসেম্বর ২১)
ধনু নারী ও পুরুষ উভয়েই চিন্তা করে থাকেন, তারা হয়তো অভিভাবক হিসেবে ঠিক যোগ্য নন, অথবা কাজটা তাদ্র খুব একটা ভালো লাগে না। বাচ্চার সাথে খাপ খাওয়াতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে তাদের। কিন্তু যথেষ্ট আন্তরিকতা থাকলে সেটাও সম্ভব।

মকর (ডিসেম্বর ২২- জানুয়ারি ১৯)
মকর রাশির কর্মজীবী মায়েরা সন্তানের জন্য নিজের কর্মক্ষেত্র থেকে সরে আসতে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করতে পারেন। বাচ্চার সাথে মাঝে মাঝে আবেগশূন্য আচরণ করে থাকেন তারা। এসব সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা উচিৎ তাদের।

কুম্ভ ( জানুয়ারি ২০- ফেব্রুয়ারি ১৮)
আপনি সন্তানদের যেভাবে বড় করে তোলেন, সে পদ্ধতিটা মোটেই সাধারণ নয়। আপনি হয়ে থাকেন তাদের সাথে বেশ ধৈর্যশীল এবং বাচ্চারাও আপনার পেছনে পেছনে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে। আপনি তাদেরকে বাচ্চা বলে তাচ্ছিল্য করেন না মোটেই। তবে একটা ব্যাপারে সাবধান থাকুন, আপনি যেভাবে জীবন নিয়ে চিন্তা করেন, আপনার সন্তানের চিন্তা তার থেকে ভিন্ন হতেই পারে।

মীন ( ফেব্রুয়ারি ১৯- মার্চ ২০)
আপনার মাঝে নিয়ম-কানুন মানার প্রতি উদাসীনতা থাকলেও অভিভাবক হিসেবে আপনি চমৎকার। আপনি নিজের সন্তানের শৈশব বুঝতে পারেন, কারণ আপনার বয়স বাড়লেও আপনার মাঝে শিশুসুলভ মানসিকতা থেকেই যায়। তবে একটা বিষয়ে সতর্ক থাকুন, সন্তানের সব কথায় সায় দেবেন না। তারা যেন আপনাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখুন।

আজকের রাশিফল তারিখ- ২৮/০২/২০১৪

আজকের রাশিফল তারিখ- ২৮/০২/২০১৪

আপনার ভাগ্য (Know Your Life) http://apnarbhagya.blogspot.in/

মেষ: (২১ মার্চ – ২০ এপ্রিল) শুভ রং: লাল, শুভ সংখ্যা: ১৬
ছোট ছোট দিক চিন্তা করে তবেই কোনো পদক্ষেপ নিন। সতর্ক থাকুন যেন সাংসারিক বা কর্মজীবনে সমালোচনার ঝড় না ওঠে। আজ আপনি বিরুদ্ধ পরিবেশে লড়াই করে নিজেকে সঠিক বলে প্রমাণ করতে পারবেন। জাতিকাদের অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত বদলের প্রয়োজন পড়তে পারে। হাল্কা মাপের পারিবারিক সমস্যা সমাধানের কাজে জড়িয়ে পড়তে পারেন।

বৃষ: (২১ এপ্রিল – ২১ মে) শুভ রং: সাদা, শুভ সংখ্যা: ৯
আপনার মৌলিক গুণে ব্যবসায় সাফল্য আসতে পারে। বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে উন্নতির সুযোগ আসবে। কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সার্থক রূপ পেতে পারে। জাতিকাদের অর্থ নষ্টের যোগ আছে। রাতের দিকে পারিবারিক কারণে মন খারাপ হতে পারে।

মিথুন: (২২মে – ২১ জুন) শুভ রং: সবুজ, শুভ সংখ্যা: ১৮
স্মৃতিশক্তির প্রখর ব্যবহারের ফলে সমস্যা মুক্তির যোগ দেখা যাচ্ছে। ঘটনার গতির দিকে লক্ষ্য রেখে সিদ্ধান্ত নিন। দুপুরের পর উপযুক্ত যোগাযোগ আপনাকে সাহায্য করবে। জাতিকারা আজকের দিনে বিলাসবহুল ক্ষেত্র বা জায়গাগুলি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। কোনো অবস্থায় আজকের দিনে ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না।

কর্কট: (২২ জুন – ২২ জুলাই) শুভ রং: হলুদ, শুভ সংখ্যা:৭
ছোট ছোট কাজকেও আপনার দেওয়া গুরুত্ব আপনাকে সুনাম এনে দেবে। পরিবেশ অনুকূল থাকায় প্রয়োজনীয় কাজগুলি করে ফেলতে পারবেন। তবে কথা বলার সময় সাবধানে বাক্যের ব্যবহার করুন। জাতিকারা কর্মস্থলে উন্নতিমূলক পরিবর্তন বেশ আনন্দই পাবেন। তবে বেহিসাবি হলে সঞ্চয় নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

সিংহ: (২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট) শুভ রং: বাদামি, শুভ সংখ্যা: ১২
নিজের ভুলের মাসুল নিজেকেই গুণতে হতে পারে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কে কিছুটা সমস্যার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। পরিবারে মায়ের কথা প্রাধান্য দিয়ে সমস্যা সমাধান হতে পারে। জাতিকাদের অর্থযোগ শক্তিশালী। কথা দিয়ে সেটা রাখতে না পারার জন্য সমস্যার মুখে পরতে হতে পারে।

কন্যা: (২৪ আগস্ট – ২৩ সেপ্টেম্বর) শুভ রং: নীল, শুভ সংখ্যা: ৯
আপনার সরল ব্যবহার আপনাকে সফলতা এনে দেবে। পদস্থ কোনো ব্যক্তির সুনজরে আসতে পারেন। দাদা বা পরিবারের অন্য কোনো অগ্রজের সঙ্গে মতের অমিল দেখা দেবে। জাতিকাদের ক্ষেত্রে কোনো সুখবর আসতে পারে। পরিবারের পরিবেশ নিজের অনুকূলে রাখতে গেলে বুদ্ধির ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠবে।

তুলা: (২৪ সেপ্টেম্বর – ২৩ অক্টোবর) শুভ রং সাদা, শুভ সংখ্যা: ২১
আপনার উদ্ভাবনী শক্তিতে কর্মস্থলে উন্নতির সিঁড়িগুলি পেরিয়ে যেতে পারবেন। অর্থযোগ আছে। তবে পিতৃস্থানীয় কারো সঙ্গে মতের অমিল হতে পারে। বিকেলের দিকে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা। জাতিকাদের অন্যমনস্কতার জন্য কাজে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা।

বৃশ্চিক: (২৪ অক্টোবর – ২২ নভেম্বর) শুভ রং: নীল, শুভ সংখ্যা: ১৮
সিদ্ধান্তহীনতার ফলে ব্যবসার যোগাযোগ সহজ হবে না। জরুরি কোনো বিষয় বুঝে উঠতে সমস্যা হবে। তবে দাম্পত্য জীবন অনুকূলে থাকায় কাজে উদ্যম বজায় থাকবে। জাতিকারা লোভনীয় উপহার বা কথার ফাঁদে পা দিলে ঠকতে পারেন। পরিবারের তরফে সহায়তার যোগ দেখা যাচ্ছে।

ধনু: (২৩ নভেম্বর – ২১ ডিসেম্বর) শুভ রং: হলুদ, শুভ সংখ্যা: ৩
কাজে জায়গায় বিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল হবে। ক্ষতিকর ও ঈর্ষাপ্রবণ কোনো মানুষের সঙ্গে কাজ করতে বাধ্য হতে পারেন। বাইরের কোনো উত্তেজনাকর ঘটনা আপনার ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলবে। জাতিকাদের সারাদিনে নানা রকম ছোট ছোট ঝামেলায় পড়তে হবে। রাতে কোনো শুভ খবর আসতে পারে।

মকর: (২২ ডিসেম্বর – ২০ জানুয়ারি) শুভ রং: লাল, শুভ সংখ্যা: ৫
আপনার উপর কোনো দায়িত্ব বর্তালে আপনাকে আরও খানিকটা সহনশীল হতে হবে। কর্মক্ষেত্রে পরিবেশ শান্ত থাকলেও পারিবারিক পরিবেশ কিছুটা প্রতিকূল হতে পারে। বিরোধীদের কাজকর্মের ফলে পাওনা টাকা পেতে দেরি হতে পারে। জাতিকাদের উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচনে ভুল হওয়ায় সমস্যা বাড়তে পারে। যোগাযোগ রক্ষার ফলে জাতিকাদের উন্নতির যোগ আছে।

কুম্ভ: (২১ জানুয়ারি – ১৮ ফেব্রুয়ারি) শুভ রং: বেগুনি, শুভ সংখ্যা: ৬
আজ আপনার বদ্ধপরিকর মানসিকতার পুরস্কার পাবেন। প্রতিপক্ষকে ভালো করে বুঝে, তারপর সিদ্ধান্ত নিন। কোনো কঠিন কাজের দায়িত্ব আপনার কাঁধে পড়তে পাড়ে। জাতিকাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয় বাড়তে পারে। সন্ধ্যার মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করুন।

মীন: (১৯ ফেব্রুয়ারি – ২০ মার্চ) শুভ রং: বাদামি, শুভ সংখ্যা: ১১
নিজের মতবিরুদ্ধ কাজ করতে গিয়ে কাজে ভুল হতে পারে। পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে সামঞ্জস্য রক্ষা করা কঠিন হবে। দুপুরের পর থেকে পরিবেশ অনুকূলে আসবে। জাতিকারা কোনো স্নেহভাজনের আগমনে খুশি হবেন। জাতিকাদের যথাযথ প্রচেষ্টায় বাড়িতে আনন্দবহুল পরিবেশ বজায় থাকবে।

কোন পেশায় সফল হবেন আপনি? জেনে নিন নিজের রাশি থেকে

কোন পেশায় সফল হবেন আপনি? জেনে নিন নিজের রাশি থেকে

মেষ
মেষ রাশির প্রতীক হলো শিংওয়ালা মারমুখী একটি প্রাণী, তার কারণ কি জানেন? কারণ মেষ কাজের ব্যাপারে খুবই তৎপর এবং আগ্রাসী। শুধু তাই নয়, তারা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রেও উৎসাহী। কাজ যত ভালো হবে, বেতন যত বেশি হবে – এমন পরিস্থিতিতে তারা খুবই ভালো কাজ করেন। তাদের চরিত্রের মাঝে সাহসিকতা অনেক বেশি আর তাই পুলিশ, দমকল কর্মী, সেনাবাহিনী এসব কাজে তারা ভালো করেন। বিজ্ঞাপন সংস্থাতেও তারা বেশ ভালো কাজ করে থাকেন। রাজনীতি, প্রশাসন এবং মিডিয়া ক্ষেত্রেও তারা ভালো করে থাকেন।

বৃষ
বৃষ যে ব্যাপারটি সবচাইতে উপভোগ করে থাকেন তা হলো স্থিতিশীলতা। যে কাজ থেকে দীর্ঘস্থায়ী সচ্ছলতা, স্ট্যাটাস ইত্যাদি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে তারা সেসব কাজে ভালো করেন। তারা সুন্দর জিনিস নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন, এ কারণে সৃজনশীল পেশায় তারা বেশি আগ্রহী হন। তাদের কণ্ঠ সাধারণত হয়ে থাকে স্পষ্ট এবং সুললিত, এ কারণে অ্যানাউন্সার, রিসিপশনিস্ট এসব কাজেও তারা ভালো করে থাকেন। তাদের সবচাইতে ভালো কাজগুলো হলো অ্যাকাউন্টেন্ট, শিক্ষক, এঞ্জিনিয়ার, উকিল, ডিজাইনার এবং শেফ।

মিথুন
মিথুনের মাথা ব্যস্ত রাখতে পারে এমন কাজ তাকে অনেক বেশি করে দিয়ে রাখলেই তিনি খুশি থাকবেন। কিন্তু তিনি যদি এমন কাজ করতে থাকেন যেখানে বারবার একই কাজ করতে হচ্ছে তবে তিনি বিরক্ত হয়ে যাবেন। যেসব কাজে ভ্রমণ করতে হয় এবং অনেক মানুষের সাথে মিশতে হয় সেগুলো তার জন্য অসাধারণ। নিয়মনীতির প্রয়োজন হয় না এমন কাজ তার জন্য ভালো। তিনি যেসব পেশায় ভালো সেগুলো হলো- স্টকব্রোকার, টেকনিক্যাল সাপোর্ট, শিক্ষক, আর্কিটেক্ট ইত্যাদি।

কর্কট
কর্কটের মাঝে রয়েছে মাতৃসুলভ বৈশিষ্ট্য। এ কারণে যেসব কাজে কোনো কিছুর যত্ন নিতে হয়- সেসব কাজ তার জন্য ভালো। তবে তার মানে এই না যে তাকে শুধু ছোট বাচ্চা, পোষা প্রাণী বা গাছপালার যত্ন নিতে বলা হবে। তিনি একসাথে অনেক কাজ করতে পারে নিখুঁতভাবে, শুধু তাই নয়, তারা ভালো উপদেশ দিতে পারেন এবং কোনো কিছু সংরক্ষন করার ক্ষেত্রেও তাদের প্রতিভা রয়েছে। তাদের জন্য ভালো কাজগুলো হলো বাগান পরিচর্যাকারী, সমাজকর্মী, শিশু পরিচর্যাকারী, উকিল, সৈনিক, সিইও।

সিংহ
সিংহ যে কোম্পানির দায়িত্বে থাকে, সেখানে লাভ ফুলেফেঁপে ওঠে। যেসব কাজ থেকে ক্ষমতা এবং ভালো স্ট্যাটাস পাওয়া যায় সেসব কাজে তারা ভালো করেন। তারা অন্যকে অনুসরণ করার চাইতে নিজে পথ দেখাতে বেশি ভালোবাসেন। তাদের জন্য সবচাইতে ভালো কাজগুলো হলো- সিইও, শিল্পী, রিয়াল এস্টেট এজেন্ট, ইন্টেরিয়র ডেকোরেটর, ফ্যাশন ডিজাইনার, প্রশাসনকর্মী ইত্যাদি।

কন্যা
কন্যা রাশি যে কন কাজ একেবারে নিখুঁত করতে পছন্দ করে। তারা অনেক খুঁটিনাটি মনেও রাখতে পারে। হয় থাকে অনেক বেশি গোছানো স্বভাবের। অন্যকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তারা ভালো করে। তাদের মস্তিষ্কের জন্য ভালো কাজ হলো লেখালেখি, গবেষণা, পরিসংখ্যান ইত্যাদি। তাদের চরিত্রও অনেক হাসিখুশি এবং বন্ধুভাবাপন্ন। এসব কারণে তাদের জন্য সবচাইতে ভালো কাজ হলো সম্পাদনা/লেখালেখি, শিক্ষকতা, সমালোচক, অনুবাদক, গোয়েন্দা, পরিসংখ্যানবিদ।

তুলা
তুলা রাশির মানুষ অন্যকে সাহায্য করতে ভালোবাসে। তারা বিভিন্ন কাজে মধ্যস্থতা করতেও পটু। তারা ভালোবাসে অন্যদের সাথে মিলেমিশে কাজ করতে। অনেকে আবার শিল্পের দিকেও ঝুঁকে থাকেন। তাদের জন্য সবচাইতে ভালো পেশা হলো নৃত্যশিল্পী, ডিপ্লোম্যাট, মধ্যস্থতাকারী, ট্র্যাভেল এজেন্ট, সুপারভাইজার ইত্যাদি।

বৃশ্চিক
খুব মনোযোগ প্রয়োজন হয় এসব কাজে বৃশ্চিক ভালো করে থাকেন। তারা হয়ে থাকেন কৌতূহলী এবং রহস্যময় ব্যাপার নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন। তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পছন্দ করে। তাদের জন্য সবচাইতে ভালো পেশা হলো গোয়েন্দা, উকিল, শিক্ষক, বিজ্ঞানী বা গবেষক, চিকিৎসক।

ধনু
নৈতিক হয়ে থাকেন ধনু রাশির মানুষেরা, এবং কিছুটা দার্শনিক মনোভাব থাকে তাদের মাঝে। তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন খুব ভালো এবং হয়ে থাকেন চমৎকার কর্মকর্তা। তারা অনেক সময়ে হয়ে থাকেন আধ্যাত্মিক। এ ছাড়াও তারা ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন। তাদের জন্য সবচাইতে ভালো কাজ হলো এডিটর, কোচ, পশু প্রশিক্ষক, ভ্রমণের সাথে এবং ধর্মের সাথে যুক্ত থাকা যে কোনো কাজ।

মকর
মকর হয়ে থাকেন খুব উচ্চাকাঙ্ক্ষী। তারা সাফল্যের জন্য যে কোনো কিছু করতে রাজি থাকেন। তারা হয়ে থাকেন নিয়মানুবর্তী এবং ক্ষমতায় থাকতে পছন্দ করেন। তারা কাজের প্রতি অনেক বেশি নিবেদিত হয়ে থাকেন। তাদের জন্য সবচাইতে ভালো কাজ হলো ম্যানেজার, প্রশাসক,, এডিটর, ব্যাঙ্কার, আইটি এবং বিজ্ঞান সংক্রান্ত যে কোনো কিছু।

কুম্ভ
কুম্ভ তার একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য সবার চাইতে আলাদা আর সেটা হলো অন্যদের প্রতি তার অসীম সহানুভূতি। তারা এমন কাজ করতে ভালোবাসে যাতে কোনো না কোনোভাবে সবার উপকার হয়। এ ছাড়াও তারা নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসে। তাদের জন্য সবচাইতে ভালো কাজ হলো বিজ্ঞানী/গবেষক, কৃষিবিদ, বৈমানিক, ডিজাইনার, সঙ্গীতশিল্পী।

মীন
বেশিরভাগ মীনের মাঝে একটা প্রাচীন এবং সনাতনধর্মী ভাব আছে। তারা সৃজনশীল এবং ভালোবাসা নিয়ে কাজ করে থাকে। যেমন ধরুন আপনি, যদি একজন মীন হেয়ারড্রেসারের কাছে যান, তিনি আপনাকে যে শুধু আধুনিক একটি হেয়ার কাট দেবেন তাই নয়, বরং এমন একটি কাট দেবেন যা আপনাকে সবচাইতে ভালো মানায়। অনেক জ্যোতিষী আছেন যারা মীন রাশির জাতক। তাদের জন্য সবচাইতে ভালো কাজ হলো- শিল্পী, নার্স, থেরাপিস্ট, পশু চিকিৎসক, মনস্তত্ববিদ।

বিশেষ সতর্কতা- রাশিফলের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই!

শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

কেমন যাবে আপনার ২০১৪ সাল?

কেমন যাবে আপনার ২০১৪ সাল?

ভাগ্যে বিশ্বাস আছে আপনার? জেনে নিতে চান কেমন যাবে ২০১৪ সাল? সাফল্য নাকি ব্যর্থতা, আনন্দ নাকি হতাশা?

রাশিচক্র নিয়ে একধরনের বিভ্রান্তি আছে আমাদের। মিলে গেলে ভালো, না মিললে মহা সংশয়বাদী। কিন্তু তারপরও খুঁজি আঁতিপাতি একটা নিশ্চিত জীবনের উত্তরে। আমরা বিশ্বাস করি বা না করি, নিজেদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও জেনে নিতে চাই। নিজেদের মন্দ দিকগুলো বিদায় করে হয়ে উঠতে চাই স্বচ্ছ, স্পষ্ট এবং সচল। ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিশ্চিত হতে চাই সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায়। পাঠক, আপনাদের ইচ্ছেপূরণের জন্য আমরা আপনাদের দ্বারপ্রান্তে হাজির।

একটি সুন্দর আগামী আমাদের দুর্গম অভিযাত্রাকে সহনীয় করুক। আমরা আরও সুন্দর সময়কে ধারণ করতে চাই, পরিতৃপ্ত না হই, নিশ্চিত হতে চাই আগামী বছরগুলোর সূত্রে। তাই হাতে তুলে নিই কি করে মূর্ত করবো জীবনের বহুবিধ ইচ্ছেগুলোকে। উপভোগ করবো, ভালোবাসবো পূর্ণিমায়, অমাবশ্যায়। পাঠক পড়ুন, ভালো লাগলে জানান আমাদের।

মেষ (Aries)

জেনে নিতে চান কেমন যাবে ২০১৪ সাল?

শুভ রং- লাল, গোলাপি ও সাদা
শুভ রত্ন- এমারল্ড, কার্নেলিয়ান, জেসপার এবং ব্লু-সফির
শুভদিন- মঙ্গলবার
শুভসংখ্যা- ৮
মানানসই রাশি- সিংহ এবং ধনু

পাশ্চাত্যমতে ২১ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল তারিখের মধ্যে জন্মগৃহণ করায় আপনি মেষ রাশির জাতক বা জাতিকা। আপনার মূল প্রভাব বিস্তারকারী গ্রহ- মঙ্গল। আপনি কর্মকাণ্ড, শারীরিক শক্তি, উদ্যোগ আর আগাসী মনোভাবের প্রতীক। আপনার মধ্যে জন্ম নেয় তিজিভাব এবং প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস। সাধারণত আপনি উদ্যোগী, প্রাণবন্ত কিন্তু কাজকর্মে অস্থির ও আগাসী মনোভাব পোষণ করে থাকেন।

আপনার জীবনে প্রেম-ভালোবাসা এবং স্বাস্থ্যগত দিক থেকে একটি পরিপূর্ণতার বছর হতে যাচ্ছে ২০১৪ সাল। পুরো বছরটিকে আপনি দুটো ভাগে ভাগ করে নিতে পারেন। প্রথম ভাগে আপনার পেশাগত জীবনের গতি কিছুটা ধীর হয়ে আসতে পারে। অল্প সময়ের মধ্যে অনেক কঠিন কঠিন কাজের চাপ আপনার জীবনকে অভাবনীয় বিরক্তির মুখে ফেলতে পারে। কি করবেন? প্রথমেই মাথাটা ঠান্ডা রাখুন। প্রয়োজন মতো ঘুমিয়ে নিন। নিজের জীবনীশক্তির উপর বিশ্বাস রাখুন।****************************************** ****************************************** ****************************************** ****************************************** ****************************************** ****************************************** সবসময় ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখুন। আত্মবিশ্বাস বজায় রাখুন। গঠনমূলক কাজে আত্মনিয়োগ করুন। পুরুপুরি নিশ্চিত না হয়ে অযথা খরচ না করাই ভালো। এই বছরটি আপনার স্বাস্থ্যগত দিক থেকে অনেক ফলপ্রসূ। বড় কোনো অসুস্থতার সম্ভাবনা নেই। পেশাগত কাজে দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে ভ্রমণের সুযোগ আসতে পারে। ছাত্র-ছাত্রীদের কারো কারো বৃত্তি পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রেমের জন্য বছরটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ একটা বছর হতে যাচ্ছে।

বৃষ (Taurus)

জেনে নিতে চান কেমন যাবে ২০১৪ সাল?
শুভ রং- পিঙ্ক, সবুজ, আকাশি, কমলা ও সাদা
শুভ রত্ন- এমারল্ড
শুভদিন- শুক্রবার
শুভসংখ্যা- ৫
মানানসই রাশি- কন্যা, মকর, মীন এবং কর্কট

পাশ্চত্যমতে ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে তারিখের মধ্যে জন্মগৃহণ করায় আপনি বৃষ রাশির অধীন। আপনার উপর মূল প্রভাব বিস্তারকারী গ্রহ শুক্র। এর প্রভাবে আপনি পরিণত হয়েছেন একজন ধীরস্থির, বাস্তববাদী, পরিশ্রমী, সৃজনশীল এবং ভ্রমণপিপাসু রূপে। এর পাশাপাশি আপনি কিছুটা রক্ষণাত্মক স্বভাবের। পেশাগত ক্ষেত্রে আপনি সহসাই ধৈর্য ধারণ করতে পারেন।

একটি পরিবর্তনের বছর হতে যাচ্ছে ২০১৪ সাল। জীবনের পরতে পরতে বাঁক নিতে পারে আপনার চিন্তা, কিছু ব্যক্তিগত অভ্যাস এবং আপনার রোমান্স, যা বদলে দিতে পারে আপনার ঘটনাপ্রবাহ এবং সেই সাথে পেশাগত জীবনের পরিকল্পনা। আপনি কিছু কারিগরি সমস্যার মধ্যে পড়ে যেতে পারেন। ব্যবসা বাণিজ্যে নতুন কোনো কনট্র্যাক্ট পাবার সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন। কিন্তু এ সময়ে আপনার কিছুটা স্বাস্থ্যহানিও হতে পারে। নিজের কার্যপ্রণালিকে ভালো করে সাজিয়ে নিন। যথাযথভাবে গুছিয়ে নিন। কাজের তুলনায় চিন্তায়র দিকে মনোনিবেশ করুন। প্রেম-ভালোবাসা আপনার জীবনে এক নতুন মাত্রা এনে দিতে পারে। সারা বছর আপনাকে অনেক বেশি সচেতন, বিচক্ষণ আর বাস্তবিকতার নিরিখে চলতে হবে।

মিথুন (Gemini )

জেনে নিতে চান কেমন যাবে ২০১৪ সাল?
শুভ রং- ধুসর, হালকা সবুজ, ক্রিম ও লাল
শুভ রত্ন- এমারল্ড
শুভদিন- বুধবার
শুভসংখ্যা- ৫
মানানসই রাশি- বৃশ্চিক, মকর, তুলা এবং কুম্ভ

পাশ্চাত্যমতে ২১ মে  থেকে ২০ জুন তারিখের মধ্যে জন্ম নেওয়ায় আপনি মিথুন রাশির জাতক কিংবা জাতিকা। আপনার মূল প্রভাব বিস্তারকারী গ্রহ - বুধ। উপলব্ধি, যোগাযোগ, যুক্তিবাদী  চিন্তা, গতিময়তা এবং কল্পনা আপনার বৈশিষ্ট্য। আপনার আকাঙ্খা অনেক বেশি আর তাই আপনি অনেক বেশি স্পর্শকাতর স্বভাবের। প্রত্যেক কাজেই আপনি আপনার নিজস্ব বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগাতে চান।

২০১৪ সার আপনার মনটা বেশ নরম থাকবে। বছরটি আপনার প্রতি বেশ সুপ্রসন্ন হতে যাচ্ছে। ধনী হবার সম্ভাবনাও খানিকটা রয়েছে। কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই নদীর স্রোতের মতো জীবন চলতে থাকবে। যারা সাহিত্যকর্ম কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত তারা এ বছর এসব ক্ষেত্রে তাদের অবদানের জন্য বিশেস সম্মাননা পেতে পারেন। কারো কারো বিদেশে যাবার সম্ভাববনা উঁকি দিতে পারে। ছাত্র-ছাত্রীদের অনেকেই এ বছর বিদেশে পড়াশুনার সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক এ বছর বিয়েতে পরিণত হতে পারে। তবে এ বছরে যেকোনো মামলা-মোকদ্দমায় জড়ানো থেকে বিরত থাকুন।

কর্কট (Cancer)

জেনে নিতে চান কেমন যাবে ২০১৪ সাল?
শুভ রং - হালকা সবুজ, সাদা ও কমলা
শুভ রত্ন- জড, জেসপার, পোখরাজ এবং এমারল্ড
শুভদিন - বুধবার এবং শুক্রবার
শুভসংখ্যা- ৬
মানানসই রাশি- বৃশ্চিক, মীন, বৃষ এবং কন্যা

পাশ্চাত্যমতে ২১ জুন থেকে ২২ জুলাই তারিখের মধ্যে জন্মগ্রহণ করায় আপনি কর্কট রাশির অধীন। আপনার উপর মূল প্রভাব বিস্তারকারী গ্রহ- চাঁদ। এর প্রভাবে আপনি আবেগ, স্বকীয়তা, নিয়মানুবর্তিতা, শক্তি ও চঞ্চলাতার ব্যক্তিত্ব লাভ করেছেন। আপনার যেকোন কার্যপ্রণালি অনেক পরিকল্পিত। সৃজনশীল এবং মানবতাবাদী কাজে আপনার আগ্রহ বেশ লক্ষণীয়।

বছরের প্রথম থেকেই আপনি এমন একটা অজানা বিষয়ের পিছনে ছুটে বেড়াবেন যা আপনার মনকে একপ্রকার অশান্তির মধ্যে রাখতে পারে। মনকে শান্ত রাখুন। কাজের প্রতি অনেক মনযোগী হয়ে উঠতে পারেন। চাকরিজীবীদের কেউ কেউ খুব বড় কোনো পদ লাভ করতে পারেন। বেকারদের কেউ কেউ নতুন কোনো চাকরিতে যোগদান করতে পারেন। সৃজশীল কাজের জন্য সম্মাননা পেতে পারেন। তবে এ সময় কিছুটা স্বাস্থ্যহানিও হতে পারে। আপনার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যেতে পারে। অনেক আনন্দের মধ্যে থাকতে পারেন আপনি। বছরের শেষের সময়টাতে আপনার অনেক সঙ্গী জুটতে পারে। বন্ধুদের সাথে কোথাও আনন্দভ্রমণেও চলে যেতে পারেন।

সিংহ (Leo)

জেনে নিতে চান কেমন যাবে ২০১৪ সাল?
শুভ রং - হলুদ ও সোনালি
শুভ রত্ন - পোখরাজ, অ্যাম্বার, মুনস্টোন, সুজিলাইট এবং হিরা
শুভদিন- রবিবার ও মঙ্গলবার
শুভসংখ্যা- ১
মামানসই রাশি- মেষ এবং ধনু

পাশ্চাত্যমতে ২৩ জুলাই থেকে ২২ আগস্ট তারিখের মধ্যে জন্মগ্রহণ করায় আপনি সিংহ রাশির অধীন। আপনার উপর মূল প্রভাব বিস্তারকারী নক্ষত্র- সূর্য। এর প্রভাবে আপনি পরিণত হয়েছেন একজন সৎ, বিবেকবান এবং অদম্য সাহসী ব্যক্তিত্বে। সেই সাথে আপনার রয়েছে বিরপীত লিঙ্গের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ। আপনি কিছুটা গর্বিত, আত্মঅহংকারী এবং আত্মকেন্দ্রিক। সৃজনশীল পেশাতেও আপনি বেশ সুনাম অর্জন করে থাকেন।

২০১৪ সালে আপনি বড় বড় বিষয় নিয়ে এমনভাবে মেতে উঠতে পারেন যে ছোট ছোট বিষয় আপনার কাছে গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে। এতে আপনি অভাবনীয় সমস্যার মধ্যে পড়ে যেতে পারেন। নিজেকে কোনো দল কিংবা কোনো সংগঠনের হয়ে গঠনমূলক কোনো কাজে নিয়োজিত রাখুন। শরীর ও মন দুটোকেই বেশ প্রফুল্ল রাখতে হতে পারে। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যেতে পারে। আপনি স্নায়ুবিক দুর্বলতার শিকার হতে পারেন। বৃহত্তর কাজের প্রয়োজনে আপনার লক্ষ্যটাকে যে করেই হোক স্থির রাখতে হবে। পার্টনার নির্বাচনে বিশেস সতর্কতা অবলম্বন করুন। এতে ভুল হলে আপনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ ভণ্ডুল হয়ে যেতে পারে।

কন্যা (Virgo)

শুভ রং - ফিরোজা, চকলেট ও সবুজ
শুভ রত্ন - কার্নেলিয়ান, জেড, জেসপার এবং ব্লু-সফির
শুভদিন - বুধবার এবং শুক্রবার
শুভসংখ্যা - ২, ৩, ৫, এবং ৬
মানানসই রাশি - বৃশ্চিক, মকর, মীন এবং কর্কট

পাশ্চাত্যমতে ২৩ আগস্ট থেকে ২২ সেপ্টেম্বর তারিখের মধ্যে জন্মগ্রহণ করায় আপনি কন্যা রাশির অধীনস্থ। আপনার উপর মূল প্রভাব বিস্তারকারী গ্রহ - বুধ। এর প্রভাবে আপনি পরিণত হন যুক্তিবাদী, স্মার্ট, সৃজনশীল, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্বে। আপনি স্বভাবই একজন বিশ্বস্ত, পরিম্রমী এবং উচ্চাভিলাষী। রক্ষণশীল এবং খুঁতখুঁতে মনোভাব আপনার প্রত্যেকটি কাজকেই বিশেষ উৎকর্ষ দান করে থাকে।

২০১৪ সাল কন্যা রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে উদ্ভাবনী শক্তির কিছু চাঞ্চল্যকর উপহার নিয়ে হাজির হতে যাচ্ছে। বছরটি আপনার জন্য যত না পারিবারিক সম্পর্কের, তার চেয়ে অনেক বেশি হবে ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলের। এর ফলে আপনি আপনার পেশগত কাজে বেশিমাত্রায় দায়িত্বশীল হয়ে উঠতে পারেন। টাকা পয়সার ক্ষেত্রে এ রাশির জাতক-জাতিকারা বড় কোনো আশাপ্রদ পরিবর্তন দেখতে পাবেন না। ছোটোখাটো এসিডিটিজনিত সমস্যা ছাড়া বছরটি মোটোমুটি সুস্বাস্থ্যেই কেটে যেতে পারে। আপনি হয়ে উঠতে পারেন সমাজের একজন বিশেষ ব্যক্তি। বছরের শেস সময়গুলোতে ত্রিমুখি প্রেমঘটিত সমস্যায় পড়ে যেতে পারেন। অতএব, এ বছরটিতে নিজের অন্তর্নিহিত উদ্ভাবনী শক্তির দিকে বেশি মনোযোগী হয়ে উঠুন।

তুলা (Libra)

শুভ রং - মেজেন্ডা, হালকা লাল, মেরুন, ফিরোজা, আকাশি ও সাদা
শুভ রত্ন - রক্ত প্রবাল এবং গার্নেট
শুভদিন - শুক্রবার ও রবিবার
শুভসংখ্যা - ১ ও ৬
মানানসই রাশি - মিথুন, কুম্ভ এবং সিংহ

পাশ্চাত্যমতে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ অক্টোবর তারিখের মধ্যে জন্মগ্রহণ করায় আপনি তুলা রাশির জাতক-জাতিকা। আপনার উপর মূল প্রভাব বিস্তারকারী গ্রহ- শুক্র। এর প্রভাবে আপনি মণ্ডিত হন চিন্তক, বিবেকবান এবং প্রবল জীবনীশক্তির বৈশিষ্ট্যরূপে। এই রাশির জাতক-জাতিকাদের থাকে প্রখর উদ্ভাবনী শক্তি এবং তাই সৃজনশীল যেকোনো কাজে খুব সহজেই তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে খুব সহজেই পেশাগত জীবনে জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারেন।

২০১৪ বছরের প্রথম দিকে পারিবারি নাটকীয়তায় ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন। বাঁচতে চান? বন্ধুদের নিয়ে বাইরে আনন্দভ্রমণে বেরিয়ে পড়ুন। বছরের শেষভাগে নিজের চিন্তাশক্তির উপর ভর করে বেশিমাত্রায় চলতে চাইতে পারেন। আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ সেইভাবে নিতে পারেন যেভাবে আপনি চান। তবে আপনার আত্মবিশ্বাস নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। আপনি নিজেকে নিয়ে প্রায়ই অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারেন। প্রেমের জগতে নতুন কারো আবির্ভাব হতে পারে। অথবা পুরাতন প্রেম জোড়া লেগে যেতে পারে।

বৃশ্চিক (Scorpio)

শুভ রং - লাল, সবুজ, নীল ও চকলেটৱ
শুভ রত্ন - রক্ত প্রবাল গার্নেট
শুভদিন - শুক্রবার ও রবিবার
শুভসংখ্যা - ৯
মানানসই রাশি - কর্কট এবং মীন

পাশ্চাত্যমতে ২৩ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর তারিখের মধ্যে জন্মগ্রহণ করায় আপনি বৃশ্চিক রাশির জাতক-জাতিকা। আপনার উপর মূল প্রভাব বিস্তারকারী গ্রহ- প্লুটো। এর প্রভাবে আপনি মণ্ডিত হন প্রাণবন্ত, সৃজনশীল, সুদক্ষ এবং প্রবল ইচ্ছাশক্তিরূপে। টাকা পয়সার প্রতি আপনার প্রবল আকর্ষণ আপনাকে এর জন্য যেকোনো পদক্ষেপ নিতে বেশ আগ্রহী করে তোলে। আপনার এই স্বভাব আপনাকে সহসাই একজন ধনী ব্যক্তিতে রূপান্তরিত করে থাকে।

২০১৪ সাল। বছরটি আপনি উৎসর্গ করতে যাচ্ছেন আপনার পরিবার আর আপনার একান্ত কিছু ভাল লাগার উদ্দেশ্যে। বছরের প্রথমভাগে আপনি সর্বদাই একটি নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে যাচ্ছেন। এ সময়ে আপনি আপনার পরিবারকেই বেশি সময় দিতে চাইবেন এবং দিতে পারবেন। অর্থের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হতে পারে। ভবিষ্যতের যে কোনো বড় কিছুর আশায় অযথা খরচ করা থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন। স্বপ্নের দিকে মনোযোগ দিন। একটা গান শুনতে পাবেন যা আপনি কখনও ভাবেন যা আপনি কখনও ভাবেননি কিন্তু চেয়ে গেছেন মনের খুব অন্তরালে। পরিবারের সাথে নিজের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিন। ছাত্রছাত্রীদের কারো কারো বিদেশ ভ্রমণ করতে হতে পারে। স্বাস্থ্যের দিকে বিশেস মনোযোগ দিতে হতে পারে।

ধনু (Sagittarius)

শুভ রং - আকাশি ও বেগুনি
শুভ রত্ন - এমারল্ড, হিরা ও গার্নেট
শুভদিন - বৃহস্পতিবার
শুভসংখ্যা - ৩
মানানসই রাশি - মেষ, সিংহ, তুলা এবং কুম্ভ

পাশ্চাত্যমতে  ২২ নভেম্বর থেকে ২১ ডিসেম্বর তারিখের মধ্যে জন্মগ্রহণ করায় আপনি ধনু রাশির জাতক-জাতিকা। আপনার উপর মূল প্রভাব বিস্তারকারী গ্রহ - বৃহস্পতি। এর প্রভাবে আপনি দার্শনিক, আশাবাদী এবং কথায় ও কাজে সৎ হয়ে ওঠেন। পাশাপাশি আমুদে প্রকৃতির হয়ে থাকেন আপনি। চলাফেরায় এবং আত্মপ্রকাশে স্বাধীনতাকেই বেশি পছন্দ আপনার। আপনার রয়েছে প্রবল অধ্যাবসায়। এটি আপনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। এই গুণের কারণে আপনি যেকোনো কাজকেই নিজের আয়ত্তে আনতে পারেন। আপনার উপর প্রেম প্রায়শ্চই সুখকর হয় না। তবে আপনার অন্তর্নিহিত শক্তি ও স্নিগ্ধ মনোভাব খুব সহজেই বিপরীত লিঙ্গের দৃষ্টি আর্ষণ করতে পারে।

২০১৪ সালের এই বছরটি আপনার শুরু হতে যাচছে মনের সাথে যুদ্ধ করে। ইচ্ছা না থাকলেও কাছের কাউকে না কাউকে এমন কিছু বলে ফেলতে পারেন যার জন্য নিজেকে অপরাধী মনে হতে পারে। মনকে নিয়ন্ত্রণ করুন। বছরের প্রথমদিকে ভালোবাসার প্রতি আপনার আকর্ষণ বেড়ে যেতে পারে। আপনার স্বাস্থ্যহানিও হতে হতে পারে। নিজেকে বছরের মাঝামাঝি সময়ে অনেক সতেজ মনে হতে পারে। তাই যতটা সম্ভব কাজে ও আনন্দে সময়টা ব্যয় করুন। সম্ভব হলে বন্ধুদের বা পরিবারের সাথে বাইরে থেকে ঘুরে আসুন। বছরের শেষভাগে আপনার মনে হতে পারে, আপনাকে কেউ বুঝতে চাচ্ছে না। তবে এতে ভয় পাবার কোনো কারণ নেই। আর কিছু হোক বা না হোক বিগত বছরের বিনিয়োগের ফসল ঘরে আনতে পারবেন।

মকর (Capricon)

শুভ রং - সবুজ, নীল, ক্রিম ও চকলেট
শুভ রত্ন - এমারল্ড এবং রক্ত প্রবাল
শুভদিন - শনি ও বুধবার
শুভসংখ্যা - ৮
মানানসই রাশি - বৃষ, কন্যা, বৃশ্চিক এবং মীন

পাশ্চাত্যমতে ২২ ডিসেম্বর থেকে ১৯ জানুয়ারি তারিখের মধ্যে জন্মগ্রহণ করায় আপনি মকর রাশির জাতক- জাতিকা। আপনার উপর মূল প্রভাব বিস্তারকারী গ্রহ - শনি। ফলে আপনি হয়ে ওঠেন একজন নিয়মানুবর্তী এবং ধৈর্য্যশীল ব্যক্তি। অভিজ্ঞতা আপনার শিক্ষার মূল উৎস। কষ্টসহিষ্ণুতা আপনার মূল হাতিয়ার। আপনি উচ্চাকাঙ্ক্ষী, সুদক্ষ এবং কর্তৃত্বপরায়ণ। প্রতিযোগিতা করতে আপনি ভালোবাসেন। প্রেমে আপনার খুব একটা উদ্দীপনা কাজ না করলেও আপনার আগ্রহে কখনও কোনো ভাটা পড়ে না।

২০১৪ সালে নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন, যা আপনি অনেক আগে করতে চেয়েছিলেন। তবে মনোযোগটা ধরে রাখতে চেষ্টা করুন। এতে সফলতা আপনার কাছে এসে নিজেই ধরা দিতে পারে। আপনার ভালোবাসা আপনার দুর্বল জায়গায় আঘাত হানতে পারে। কিছু ভুল বোজাবুঝির উদ্রেক হতে পারে। নতুন কাউকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। স্বপ্ন পূরণের দিকে মনযোগ দিতে পারেন। অর্থ উপার্জন বেড়ে যেতে পারে। পেশাগত ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ আসতে পারে।

কুম্ভ (Aquarius)

শুভ রং - গাঢ় সবুজ, নীল ও বেগুনি
শুভ রত্ন - কার্নেলিয়ান এবং জেসপার
শুভদিন - শুক্রবার
শুভসংখ্যা - ৮ ও ৪
মানানসই রাশি - মিথুন এবং তুলা

পাশ্চাত্যমতে ২০ জানুয়ারি থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি তারিখের মধ্যে জন্মগ্রহণ করায় আপনি কুম্ভ রাশির জাতক-জাতিকা। আপনার উপর মূল প্রভাব বিস্তারকারী গ্রহ - ইউরেনাস। এর প্রভাবে আপনি হয়ে ওঠেন স্বাধীনতাপ্রিয়, প্রগতিশীল এবং মানবতাবাদী। আপনি ভয়ানক খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে থেকেও নিয়মানুবর্তিতা এবং ধৈর্যকে বজায় রাখতে পারেন। আপনি বিশ্লেষক, বুদ্ধিমান, উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন এবং খানিকটা একগুয়ে স্বভাবের। পাশাপাশি বন্ধুভাবাপন্ন এবং স্বনিয়ন্ত্রিত।

বেশ উত্তেজনা নিয়ে আপনি ২০১৪ সালটি শুরু করতে যাচ্ছেন। মনটা গতিশীল হয়ে উঠতে পারে বছরের প্রথম দিক থেকেই। আপনি যে পরিকল্পনা করেছেন তার বাইরে চলে যেতে পারেন। আপনি নতুন কোনো প্রেমের সম্পর্কে জোড়া লেগে যেতে পারেন। কারো কারো ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক জোড়া লেগে যেতে পারে। ফলে আপনার মধ্যে কাব্যিক ভাব জেগে উঠতে পারে। তবে পেশাগত ক্ষেত্রে আপনি অস্থিরতায় ভুগতে পারেন। এক পা সামনে দিলে দুই পা পেছনে দিতে থাকবেন। অতএব, ভেবে চিন্তে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়াটাই ভালো।

মীন (Pisces)

শুভ রং - সবুজ, ক্রিম, বেগুনি ও আকাশি
শুভদিন - বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার
শুভসংখ্যা - ৩ ও ৭
মানানসই রাশি - বৃষ, কন্যা, বৃশ্চিক এবং মীন

পশ্চাত্যমতে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মার্চ তারিখের মধ্যে জন্মগ্রহণ করায় আপনি মীন রাশির জাতক-জাতিকা। আপনার উপর মূল প্রভাব বিস্তারকারী গ্রহ - নেপচুন। আর তাই আপনি সাধারণত আদর্শবাদী, আধ্যাত্মিক, রোমান্টিক এবং কল্পনাবিলাসী চরিত্রের ধারক। পাশাপাশি খুবই বন্ধুভাবাপন্ন এবং গভীর মনের অধিকারী। সর্বদা আপনি একটি অর্থপূর্ণ জীবন চান। আর এতেই আপনি স্বাচ্ছন্দবোধ করে থাকেন আপনি।

২০১৪ সালের প্রথম দিকে আপনার মন অনেকটা শান্ত থাকবে। কিন্তু এর জন্য আপনার কিছু সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। আপনি কোনোভাবেই চাইবেন না যে আপনার ব্যক্তিগত কাজের মধ্যে কেউ ঢুকে পড়ুক। যতটা সম্ভব নীরব থাকুন। আপনার মাথা থেকে কিছু না কিছু বেরিয়ে আসতে পারে। বছরের মাঝামাঝি সময়ে আপনি বেশ কিছু দুঃখ-যন্ত্রণার মধ্যে পড়ে যেতে পারেন। হতাশায় আপনার চিন্তা-চেতনাকে আচ্ছন্ন করে ফেলতে পারে। স্বাস্থ্যটাও কিছুটা ভেঙে যেতে পারে। একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে একচিত্তে ধাবমান হন। কারো কারো ক্ষেত্রে বিদেশ ভ্রমণ হতে পারে।

আল্লাহর পথে চলতে গেলে অনেক কথা শুনতে হবে

আল্লাহর পথে চলতে গেলে অনেক কথা শুনতে হবে, অনেকে ক্ষতি ও দুঃখের সম্মুখীন হতে হয়।
বিশেষ করে মূর্খ কিছু লোক থাকে যারা আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিচ্যুত করতে চায় ও আল্লাহর পথে বাঁধা দেয়।
সাবধান!
পার্থিব জীবন হচ্ছে প্রতারণার সম্পদ!!
দুনিয়াকে দিয়ে পরকালকে পাওয়ার চেষ্টা করাই হচ্ছে প্রকৃত সাফল্য!!!

****************************************** ****************************************** ****************************************** ****************************************** ****************************************** ******************************************

এটাই নারী ও পুরুষ, সবার জন্য সহীহ নামাযের নিয়ম

এটাই নারী ও পুরুষ, সবার জন্য সহীহ নামাযের নিয়ম
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “সাল্লু কামা রায়াইতুমুনি উ-সাল্লী”।
অর্থঃ তোমরা ঠিক সেইভাবে নামায পড় যেইভাবে আমাকে পড়তে দেখেছো।
বুখারী ও মুসলিম।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নারী ও পুরুষদেরকে আলাদা নামায শিক্ষা দেন নাই!
যেই নামায তিনি আবু বকর (রাঃ), উমার (রাঃ) কে শিক্ষা দিয়েছেন, ঠিক সেই নামায তিনি শিক্ষা দিয়েছেন আয়িশাহ (রাঃ), ফাতেমা (রাঃ) কে।

নারী ও পুরুষের রুকু, সেজদা, বৈঠক করা ইত্যাদি আলাদা, এই নামে যত্তগুলো হাদীস পাওয়া যায় সবগুলো হয় জাল নয়তো জয়ীফ। আর এর বিপরীতে সহীহ হাদীসে পাওয়া যায় মহিলা সাহাবীরা পুরুষ সাহাবীদের মতোই নামায পড়তেন।
ইমাম বুখারীর তারিখে সাগীর, হাদীস সহীহ।

এইজন্য যারা হানাফী মাযহাব মানে, সেই ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) এর উস্তাদেরও উস্তাদ, ইমাম ইব্রাহীম নাখয়ী (রহঃ) বলেন, “নারীরা নামাযে তাই করবে যা একজন পুরুষে করে থাকে”।
মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, প্রথম খন্ড পৃষ্ঠা ৭৫, হাদীসটা সহীহ।

আজে বাজে কথায় কান দেবেন না – ভিডিওটাতে যেই নামায দেখানো হয়েছে – সেটা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য সহীহ নামাযের পদ্ধতি।

তবে, বোনদের কারো নতুন নতুন কিছু ব্যপার পালন করতে গেলে যদি একটু কষ্ট হয় সমস্যা নাই – আপনার জন্য যতটুকু সম্ভব সেটা করার চেষ্টা করবেন। কিন্তু কষ্ট করেও হলেও করতে হবে এমন না। বা এইখানে যেইরকম দেওয়া আছে হুবুহ করতেই হবে এমন না। সঠিক নিয়মটা জানবেন, সাধ্য অনুযায়ী মানার চেষ্টা করবেন। এতেই যথেষ্ঠ, কোনো সমস্যা থাকলে সেটা আল্লাহ দেখবেন।
****************************************** ****************************************** ****************************************** ****************************************** ****************************************** ******************************************

যুবক যুবতীর শুভ বিবাহের উদ্যেশে অনলাইন মাধ্যমে বিজ্ঞাপণ প্রচারের একসংস্থা

শুভ বিবাহের উদ্যেশে পাত্রীর সন্ধান 

বিবাহ বন্ধন ** পাত্রীর সন্ধান

যুবক যুবতীর শুভ বিবাহের উদ্যেশে অনলাইন মাধ্যমে বিজ্ঞাপণ প্রচারের একসংস্থা।

************************************************************

নিবেদন – এইবিজ্ঞাপণ মাধ্যমে সর্বসাধরণকে স্বাগত জানিয়ে আমাদের এই অনলাইন অনুষ্ঠান যুবক যুবতীর শুভ বিবাহের অনুসন্ধানের উদ্যেশে অনলাইন মাধ্যমে প্রচারকেন্দ্র হিসাবে পরিচালিত করাহয়। আমাদের কাজ শুধু পাত্র পাত্রীর অনুসন্ধান সর্বসাধারণ প্রর্যন্ত্য অনলাইন মাধ্যমে পৌছান, বাকী সম্পূর্ন দায়িত্বর কাজ পাত্র পাত্রীর অভিভাবক নিজেরাই উভয় প্রার্থী যোগাযোগ সম্পর্ক করার সুযোগ পাবেন আপনার নিজেস্ব ফোনের মাধ্যমে। বিজ্ঞাপণ প্রার্থী বিজ্ঞাপণ প্রচার করার উদ্যেশে আমাদের নির্দিষ্ট এককালীন রেজিষ্ট্রেশন মাসুল বহন করিবেন। নিন্মে  উল্লেখ করা হল। বর্তমান সময় প্রথম ১ মাস ফ্রী অর্থাৎ বিনা মাসুলে যুবক যুবতীর শুভ বিবাহের উদ্যেশে অনলাইন মাধ্যমে বিজ্ঞাপণ প্রচারের সুযোগ নিন এবং আজ ই আপনার বিজ্ঞাপনের সম্পূর্ণ বিবরণ মন্তব্যসহ ও ছবি আমাদের Email ID তে পাঠিয়ে Blog : http://421masterearning.blogspot.in সাইটে আপনার বিজ্ঞাপের প্রচার দেখুন।

৩ মাস প্রচার মাসুল ৩৬৫/ টাকা *  ৬ মাস প্রচার মাসুল ৬২১/টাকা  *  ১ বছর প্রচার মাসুল  ১০১১/টাকা

বর্তমান সময়ে বিশেষ অফার ৩, ৬, ও ১২, মাসের বুকিং প্রার্থীদের পাত্র পাত্রীর বিবাহের

উদ্যেশে জ্যোতিষ বিচারের রাশিমিলন (বিবাহ কুন্ডুলী জানতে) বিনা মাসুলে সুযোগ পাবেন।

 প্রয়োজন হলে আমাদের “ইমেলে” আপনার পাত্র পাত্রীর সম্পূর্ণ বিবরণ ও আপনার মন্তব্য সহ (বায়োডাটা)ও

পাসর্ফোট সাইজ ফটো পাঠিয়ে যোগাযোগ করুন। 

Email: computer.kedar@gmail.com

Contact No : 08972702700

**********************************************

বিঃদ্রঃ – আপনার সন্তানের বিজ্ঞাপনে দেয়া পাত্র পাত্রীর সমন্ধ ঠিক হয়ে গেলে, আমাদের ইমেলে  আপনার রেজিষ্ট্রী নং ও

 নাম উল্লেখ করে তৎকাল নিশ্চয় খবর জানাবেন। কারণ অন্যকোন প্রার্থীর ফোনে আপনারা বিরক্ত হতে পারেন। ধন্যবাদ

দশ বিধ সংস্কার


ব্রাহ্মণ বংশে জন্ম গ্রহন করলেই তাকে ব্রাহ্মণ বলে না বরং সংস্কার দ্বারা তার দ্বিজ পদবাচ্য হইয়া থাকে। সুতরাং সংস্কারগুলো যাতে লুপ্ত না হয় সেই বিষয়ে আমাদের সতর্ক হওয়া উচিৎ। সনাতন ধর্মে দশ বিধ সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। যা বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক সমাজেও স্বীকৃত। আজ আমি সেই বিষয়ে আলোচনা করবো। সংস্কারগুলো চার শ্রেণীতে বিভক্ত, যথা-
ক. গর্ভ-সংস্কার
১) গর্ভাধান ২) পুং-সবন ৩) সীমন্তোন্নয়ন


খ. শৈশব-সংস্কার
৪) জাতকর্ম ৫) নাম করণ ৬) অন্নপ্রাশন


গ. কৈশোর-সংস্কার
৭) চুড়া করণ ৮) উপনয়ন ৯) সমাবর্তন


ঘ. যৌবন-সংস্কার
১০) বিবাহ

০১) গর্ভাধানঃ-
গর্ভাধান দশ বিধ সংস্কারের মধ্যে প্রথম ও প্রধান। এর উদ্দেশ্য সত্ত্ব গুনের উৎকর্ষ সাধন। ঋষিগণ বেদ আলোচনা  দ্বারা স্থির করেছেন যে, পিতৃ শরীর হইতে উৎপন্ন হয় অস্থি, স্নায়ু ও মর্জ্জা এবং মাতৃ শরীর উৎপন্ন হয় ত্বক, মাংস ও রক্ত এই ষড়্‌বিধ কোষের সমন্নয়ে মানবদেহ গঠিত। তাই গর্ভাধান, গর্ভগ্রহণ যোগ্যতা তদুপযুক্ত সময় নিরুপণ করতঃ সন্তানোৎপত্তিকালে যাহাতে জনক-জননীর মন পশু-ভাবাপন্ন না হইয়া সত্ত্ব-ভাবাপন্ন তাহাই গর্ভাধানের মূল উদ্দেশ্য।

০২) পুং-সবনঃ-
পুং-সবন শব্দের অর্থ পুত্র সন্তান উৎপত্তি। গর্ভগ্রহণের তৃতীয় মাসের দশ দিনের মধ্যে ইহা নির্বাহ করতে হয়। প্রথমে হোম করিয়া স্বামী বধূর পিছনে দাঁড়িয়ে স্ত্রী-র কাঁধ স্পর্শ করিয়া ডান হাতের কর নাভিদেশ  স্পর্শ করিয়া নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ করিবে, “সূর্য, বরুণ, অশ্বিনীকূমার যুগল, অগ্নি, বায়ু যেমন পুরুষ, তোমার গর্ভেও এইরূপ পুরুষেরই আবির্ভাব হউক”।


০৩) সীমন্তোন্নয়নঃ-
গর্ভধারণের ষষ্ঠ বা অষ্টম মাসে সীমন্তোন্নয়ন সংস্কার করতে হয়। এর মূল কাজ হলো সীমান্ত বা সিঁথি তুলিয়া দেওয়া এর অর্থ এখন থেকে পতিগামিনী না হওয়া বা স্বামীর সাথে সহবাস না করা। শেষে পতিপুত্রবতী (যে নারীর স্বামী ও পুত্র জীবিত আছে)রমনী গন বধূকে একটি বেদীর উপরে বসাইয়া জল পূর্ণ ঘট/কলস দ্বারা মঙ্গল স্নান করাবেন এবং  বধুকে বলবেন “তুমি বীর প্রসবিনী, জীববৎসা ও জীবপতিকা হও”।

০৪) জাতকর্মঃ-
সন্তান ভূমিষ্ট হইবার সাথে সাথে পিতা নবজাতকের মুখে যব ও ব্রীহিচূর্ন (আউশ ধান) দ্বারা পরে স্বর্ণ দ্বারা ঘৃষ্টমধু ও ঘৃত গ্রহন পূর্বক সদ্যোজাত সন্তানের জিহ্বা স্পর্শ করিবেন।

০৫) নামকরণঃ-
সন্তান ভূমিষ্ট হইবার দশ রাত্রির বা বর্ষ পূর্ন হইলে নামকরণ করা হয়। অনেকে ষষ্ট রাত্রিতে নামকরণ করে থাকে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করে বিধাতা এই দিয়ে নবজাতকের ভাগ্য নির্ণয় করে থাকেন। অধুনা অন্নপ্রাশনের সময়ও নামকরণ করা যায়।

০৬) অন্নপ্রাশনঃ-
পুত্র সন্তানদের ষষ্ঠ বা অষ্টম মাসে এবং কন্যা সন্তানের পঞ্চম বা সপ্তম মাসে অন্নপ্রাশন / মুখেভাত দেয়া হয়।

০৭) চুড়া করণঃ-
গর্ভাবস্থায় সন্তানের মস্তকে যে কেশ / চুল থাকে তাহা নিঃশেষে কাটিয়া উহা দ্বারা শিশুকে শিক্ষা ও সংস্কারের পাত্রী ভূত করা হয়।

০৮) উপনয়নঃ-
বর্ন ভেদে উপনয়ন সময় ও নিয়ম পরিবর্তন হয়, ব্রাহ্মণ শিশু জম্মের অষ্টম বর্ষ হতে  ষোড়শ বর্ষ বয়ঃক্রম পর্যন্ত (ষোড়শ বর্ষের পর সাবিত্রী পতিত হয়, সুতরাং উপনয়ন হয় না)। ক্ষত্রীয় একাদশ হইতে দ্বাবিংশ বর্ষ পর্যন্ত এবং বৈশ্য দ্বাদশ হইতে চতুর্বিংশ বর্ষ পর্যন্ত এই সংস্কারের অধিকারি। নির্দিষ্ট মাসের পরে যদি কেহ উপনয়ন নিতে চায় তাকে ব্রাত্যতাদোষের প্রায়শ্চিত্ত করিয়া উপনয়ন নিতে হবে।


০৯) সমাবর্তনঃ-
এই নিয়ম এখন আর দেখা যায় না। পূর্বে উপনয়ন এর পর গুরুগৃহে বাস করার রীতি ছিল এবং পাঠ সমাপ্তনান্তে গুরুর আদেশে গৃহে প্রত্যাগত হয়ে গার্হস্থ্য জীবন শুরু করত।

১০) বিবাহঃ-
যৌবনাবস্থা একমাত্র সংস্কার এটি যাতে সকল জাতিরই এতে অধিকার রয়েছে। বিবাহের মাধ্যমে স্ত্রী পুরুষ এক হয়। ধর্ম মতে ব্রাহ্মণ ২৪, ক্ষত্রীয় ২৮, বৈশ্য ৩২ এবং শূদ্র ১৬ পর ৪৮ বৎসরের মধ্যে এই সংস্কারের অধিকারি। শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বিবাহ বিষয়ে খুব জোর দিয়েছেন, তিনি বলেছেন “ইষ্ট-স্বার্থপ্রতিষ্ঠা যার / পরিণয়ের মূলে, তারই বিয়ে সার্থক হয় / বংশ ওঠে দুলে”।

আলোচনা প্রসঙ্গে এই দশ বিধ সংস্কার যাতে ঠিক ভাবে পালন করা যায়  সে বিষয়ে লক্ষ রাখতে বলেছেন।

স্ফিংস - এক পৌরাণিক দানবী

যুগে যুগে পৌরাণিক ইতিহাসের নানা কাহিনীতে আমরা অনেক দেবতার সন্ধান পাই। আবার এ নিয়ে রাক্ষস আর দানব-দানবীর ইতিহাসও নেহাতই কম নয়। স্ফিংস তেমনি এক পৌরাণিক দানবী। প্রাচীন মিসর এবং গ্রিক পুরাণ থেকে এর উদ্ভব। পৌরাণিক বর্ণনা অনুযায়ী স্ফিংস হচ্ছে একটি সিংহ, যার মাথা মানবীর। এর ব্যতিক্রম বর্ণনাও রয়েছে কোথাও কোথাও। তবে মূল বক্তব্য এটিই। এখনো প্রাচীন বিভিন্ন নিদর্শনে এই দানবীর অস্তিত্বের প্রমাণ মিলে। মিসরের বিখ্যাত স্ফিংসের পিরামিড যার উজ্জ্বল উদাহরণ।

মিসরের বিখ্যাত পিরামিড গ্রেট স্ফিংসের নাম শোনেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। মানুষের মাথা আর সিংহের শরীরের আদলে গড়া এই পিরামিড বিশ্বের বিস্ময় জাগানিয়া স্থাপত্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। পৃথিবীর বৃহত্তম ও বিখ্যাত স্ফিংস ভাস্কর্য মিসরের নীলনদের তীরে গিজা মালভূমিতে অবস্থিত। মনে করা হয়, সে স্ফিংসের চেহারা রাজা ফারাহ খাফরা অথবা সম্ভবত তার ছেলের। এ কথা কমবেশি সবার জানা থাকলেও অনেকেই জানে না এই স্ফিংস আসলে কি?

গ্রিক পুরাণ মতে, স্ফিংস ছিলেন প্রাচীন গ্রিসের থিবস নগরীর রক্ষক। নগরীতে প্রবেশকারী সব আগন্তুককে ধাঁধার জটিল জালে বন্দী করার কৌশল ছিল স্ফিংসের একচেটিয়া রণনীতি। সেসব জটিল প্রশ্নের উত্তর জানা ছিল না কোনো মানুষের। ধাঁধার সমাধান না করতে পারলে থিবস-এ প্রবেশ দূরে থাক উপরন্তু প্রাণও খোয়া যেত। উত্তর দিতে অপারগ সেসব হতভাগ্য মানুষকে বধ করে উদরপূর্তি হতো স্ফিংসের। আর এক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম ইডিপাস। স্ফিংস এই গ্রিক বীরকে প্রশ্ন করেন: কোন সেই জন্তু যে সকালে চতুষ্পদ, মধ্যাহ্নে দ্বিপদ আর সন্ধ্যায় তিন পদের সাহায্যে চলে? প্রত্যুত্তরে ইডিপাস জানান, তার নাম মানুষ। শৈশবে সে চার হাত-পায়ের সাহায্যে হামাগুঁড়ি দেয়, যৌবনে দু'পায়ের ওপর ঋজু হয়ে চলে আবার বার্ধক্যে হাতের লাঠির ওপর ভর করে হাঁটে। কথিত আছে, এই উত্তর শোনার পরই ধ্বংস হয়ে যায় স্ফিংস ও তার সঙ্গের বিভীষিকা।

কথিত আছে স্ফিংস উঁচু থেকে পাথরে আছড়ে পড়ে মারা যায়। আবার অন্য কাহিনী মতে, সে নিজেই নিজেকে খেয়ে ফেলে। ভয়ঙ্কর এ দানবীর নাম স্ফিংস। যার শরীরের মাথার দিকটা মানবীর মতো আর শরীরের বাকি অংশ সিংহের মতো। তবে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনেকে আবার একে মতভেদ না বলে প্রকারভেদ বলার পক্ষপাতী। নানা পৌরাণিক কাহিনী ঘেঁটে দানবী স্ফিংসের তিনটি নাম এবং চেহারা খুঁজে পাওয়া যায়। এগুলো হচ্ছে 'অ্যান্ড্রোস্ফিংস' (Androsphinx)। এ ধরনের স্ফিংসের দেহ সিংহের, মাথা মানবীর। অধিকাংশ বর্ণনায় এ ধরনের স্ফিংসের কথাই জানা গেছে। আরেকটি হচ্ছে ক্রায়োস্ফিংস (Criosphinx)। এ ধরনের স্ফিংসের দেহ সিংহের, মাথা ভেড়ার। শেষটি হচ্ছে হেইরোকোস্ফিংস (Hierocosphinx)। যেটির দেহ সিংহের আর মাথাটি হচ্ছে বাজপাখির।

পুরাতাত্তি্বকরা অবশ্য এসব কাহিনীকে রূপক আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, আসলে এর পরই অবসান হয় আদিম উপাসনা রীতির। গ্রিসে সূচনা হয় পরবর্তী যুগের অলিম্পিয়ান দেবদেবীর পূজা অর্চনার প্রথা।

খ্রিস্টপূর্ব নবম শতাব্দীতে স্ফিংস চিত্রশিল্পী এবং ভাস্করশিল্পীদের কাছে প্রেমের প্রতীক হিসেবে ধরা দেয়। গ্রিক ও মিসরীয় পৌরাণিক কাহিনীতে ভিন্ন ভিন্ন স্ফিংসের উল্লেখ পাওয়া যায়। গ্রিকরা অবশ্য স্ফিংসের দেহে নারীর সৌষ্ঠব প্রয়োগ করেছিলেন। গ্রিসে স্ফিংসের পরিচয় ধ্বংস ও দুর্ভাগ্যের বাহক এক দানবী হিসেবে। পৃথিবীর বৃহত্তম স্ফিংস ভাস্কর্যটির নির্মাতা মনে করা হয় রাজা ফারাও খাফরাকে। রাজা ফারাও খাফরা তার রাজবংশের চতুর্থ রাজা ছিলেন (২৭২৩-২৫৬৩ BC)। এ স্ফিংস ভাস্কর্যকে বলা হয় Khepri-Re-Atum, আরবি নাম Abual Hoi, যা অনুবাদ করলে হয় 'ফাদার অব টেরর' (Father of terror)। তবে গ্রিক নাম স্ফিংসই প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। তবে গ্রিক পুরাণের স্ফিংস এবং মিসরীয় স্ফিংসের মধ্যে পার্থক্যের কথা না বললেই নয়। মিসরে স্ফিংসকে মানব হিসেবে দেখালেও গ্রিক পুরাণে এটা মানবী। গ্রিক কবি হেসিউডের বর্ণনা থেকে জানা যায়, এই স্ফিংস হচ্ছেন ইচিদনা এবং অথ্রুসের কন্যা। আর অন্য মতে তাইফুন এবং ইচিদনার কন্যা। এখানেও একে ভয়ঙ্কর দানবী হিসেবেই পরিচিত করা হয়েছে।

যত যাই হোক না কেন, কল্পনা কিংবা পুরাণের এই দানবী আজো শত শত মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে

নার্সিসাস - এক অহংকারী পৌরাণিক

গ্রিক পুরাণে নার্সিসাস সেই অহংকারী পৌরাণিক যুবক যার রূপ মাধুর্য ভাষার মাধ্যমে বর্ণনা করা যাবেনা, যার রূপকে কোন চিত্রকর কোনদিন ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে পারবেননা। নার্সিসাস হলেন নদীর দেবতা সেফিয়াস ও নীল অপ্সরী লিরিওপের পুত্র। নার্সিসাসের জন্ম কাহিনী আরেক বিশাল ইতিহাস।

রূপবান নার্সিসাস শিশুকাল থেকেই ছিলেন আত্মগর্বিত ও অহংকারি।
এমন কোন অপ্সরী নেই যে নার্সিসাসের প্রেমে পড়েনি। নির্বিশেষে সবাই নার্সিসাসের রূপের প্রেমে পড়েছিলেন এবং প্রত্যেকেই হয়েছিলেন প্রত্যাখ্যাত ও তার নিষ্ঠুরতার শিকার। তিনি মনে করতেন তার যোগ্য ও সমকক্ষ কেউ নেই। তিনি যখন জানতে পারতেন কোন অপ্সরী তার প্রেমে পড়েছে, তাহলে সেই অপ্সরীকে তিনি ঘৃণাভরে অভিশাপ দিতেন বা হত্যা করতেন।
মিথোলজিতে নার্সিসাসের নিষ্ঠুরতার সবচেয়ে বড় উদাহরন হিসেবে দেবী অপ্সরী ইকোর নামটি উল্লেখযোগ্য (Echo শব্দটির উৎপত্তি এই বিখ্যাত গ্রিক দেবীর কাছ থেকেই হয়েছে। তার ইতিহাস আরো লম্বাচওড়া ও চমকপ্রদ)। ইকো হলেন সঙ্গীতের দেবীদের মধ্যে অন্যতম, সুন্দরী ও অপূর্ব মিষ্টি কন্ঠস্বরের জন্য তিনি বিখ্যাত। তিনি বাস করেন গভীর জঙ্গলে ও পাহাড়ে। নার্সিসাস মাঝে মাঝে তার অনুসারী দলবল নিয়ে জংগলে শিকার করতে আসতেন। একদিন ইকো নার্সিসাসকে দেখে ফেললেন এবং দেখামাত্রই প্রেমে পড়লেন। জঙ্গলের দেবতার অভিশাপে অভিশপ্ত ইকো নিজ থেকে কথা বলতে পারতনা, অন্যজন কিছু একটা বলার পরই কেবল সে কথা বলতে পারত। নার্সিসাস প্রতিদিন শিকারে আসলে ইকো তাকে অনুসরন করতেন এবং মনে মনে আশা করতেন নার্সিসাস যেন কিছু একটা বলে। একদিন নার্সিসাস তার দল থেকে আলাদা হয়ে পড়লেন। কাউকে না পেয়ে সে চিৎকার করে বলল, “এখানে কেউ আছ?”। তখন ইকো উত্তর দিল “কেউ আছ?”। এরপর নার্সিসাস যাই বলেন অপ্সরী ইকো আড়াল থেকে হুবুহ সেটাই উত্তর দেন। একসময় নার্সিসাস বললেন, “কাছে আস, এসো আমরা পরস্পরকে দেখা দিই”। ইকো ঠিক এই উত্তরটি দেয়ার অপেক্ষায় ছিলেন এবং তার হৃদয়ের সকল ভালোবাসা উজাড় করে সুমিষ্ট কন্ঠে একই উত্তর দিলেন এবং নার্সিসাসের কাছে গেলেন। প্রেমান্ধ ইকো যখন নার্সিসাসকে ছুঁয়ে দেখতে গেলেন অহংকারী নার্সিসাস তখন তার কাছ থেকে সরে গেলেন এবং বললেন, “তুমি আমার কাছে আসার আগে আমার মৃত্যূ অধিক ভালো”। নার্সিসাস নিজের প্রতি এতই মগ্ন ছিলেন যে অন্যকারো ভালোবাসা তিনি ঘৃণার চোখে দেখতেন। লজ্জিত ও বিমর্ষ ইকো তখন থেকে পাহাড়ের গুহায় বসবাস করা শুরু করলেন। বেদনায় ও যন্ত্রনায় ধীরে ধীরে তার শরীরের চামড়া ও মাংস শুকিয়ে গেল এবং তার হাড়গুলো পরিণত হলো শক্ত পাথরে। পৃথিবীতে তার একটিমাত্র জিনিসই রয়ে গেল…তার কন্ঠস্বর। আজও কেউ বনে বা পাহাড়ে গিয়ে কিছু বললে ইকো সেটার জবাব দেন (Echo= প্রতিধ্বনি)।

নার্সিসাস নিজের রূপ নিজ চোখে স্পষ্টভাবে কোনদিন দেখেননি। এই দেখাটাই তার জীবনে পরিণতি ডেকে আনে। নার্সিসাসের নিয়তি নিয়ে নানান গল্প চালু আছে তবে সবচেয়ে অধিক প্রচলিত গল্পটিই আমি দিলাম।
হরিণ শিকার করার পর ক্লান্ত নার্সিসাস একদিন পানির আশায় নদী তীরে আসলেন, এই নদী যার নাম ডোনাকন হলো জগতের সবচেয়ে স্বচ্ছ পানির নদী যে নদীর পানিতে কোনদিন কেউ হাত দেয়নি, কখনো কোন পশু এ নদীর পানি পান করেনি। নার্সিসাস যখন পানির জন্য নিচু হলেন তখনি প্রথমবারের মত নিজেকে স্পষ্ট দেখতে পেলেন এবং পানিতে প্রতিফলিত নিজের রূপ দেখে মুগ্ধ বিস্ময়ে বার বার বলতে লাগলেন, “এত সুন্দর! এত সুন্দর!”। নিজের প্রতিফলনকে ছুঁয়ে দেখার জন্য তিনি পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং পানিতে ডুবে মারা গেলেন। আরেকটি গল্পে চালু আছে নার্সিসাস নিজের প্রতিফলনের কাছে যেতে না পারার হতাশায় গ্লানিতে ধীরে ধীরে মৃত্যূবরন করেন।

(নার্সিসাস ফুল)
তার মৃত্যূর পর দেবতারা তাকে অপূর্ব একটি শাদা ফুলে রূপান্তরিত করেন। ড্যাফোডিল গোত্রীয় “নার্সিসাস” ফুলটির নাম এসেছে এই রূপবান নার্সিসাসের নাম থেকেই। ফুলটি আজও তার অপরূপ সৌন্দর্য দিয়ে মানুষকে মুগ্ধ করে যাচ্ছে।

টিপু সুলতান

 "আজ থেকে গোটা হিন্দুস্তান আমাদের" ----কথাটি বলেছিলেন জেনারেল হার্স, যে দিন হিন্দুস্তানের বীর সেনা শহীদ টিপু সুলতান  শাহাদাত বরণ করেছিলেন। উনার এই শাহাদাতের মধ্য দিয়ে বস্তুত গোটা হিন্দুস্থানের ওপর নেমে এসেছিল পরাধীনতার অন্ধকার।  শহীদ টিপু সুলতান যতদিন হায়াতে ছিলেন ততদিন ইংরেজদের তাড়িয়ে বেড়িয়েছেন,দেশের স্বাধীনতা আগলে রেখেছেন।কিন্তু তিনি শাহাদাত বরণ করলে শুধু হিন্দুস্থানই নয়, গোটা মুসলিম বিশ্ব যেন স্বাধীনতার এক অতন্দ্রপ্রহরী হারিয়ে অভিভাবক হারা অবস্থায় পড়ে যায়। তাই শহীদ টিপু সুলতান তিনি ছিলেন ভারতবাসীর জন্য একজন চিরস্মরণীয় বীর। কিন্তু ইতিহাস বিকৃতি আর আমাদের উদাসীনতায় এই মুসলিম বীর আমাদের কাছে হয় অপরিচিত থেকেছেন নতুবা এমন পরিচয় লাভ করেছেন যা উনার মতো মহান বীরের জন্য অবমাননার শামিল।

শহীদ টিপু সুলতান যখন জন্মগ্রণ করেন তখন বাংলা বিহার সহ ভারতের অনেক অংশই ব্রিটশরা দখল করে ফেলে। উনার নাম মুবারক ‘টিপু সুলতান’  ;   বিখ্যাত বুযুর্গ, হযরত টিপু সুলতান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রুহানী ফয়েজের নামের সাথে মিল রেখে  রাখা হয় ‘টিপু সুলতান’।

শহীদ টিপু সুলতান তিনি ছিলেন একজন সত্যিকার আলেম ও মুমিন ব্যক্তি। পিতা হযরত হায়দার আলী রহমতুল্লাহি আলাইহি পুত্র শহীদ টিপু সুলতান এর জন্য উত্তম শিক্ষা-দীক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। ইলম ও জাগতিক শিক্ষার সাথে সাথে তিনি অল্প বয়সে যুদ্ধ বিদ্যা রপ্ত করেন। ১৭৬৭ সালে মাত্র সতের বছর বয়সে তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে মহীশুরের প্রথম যুদ্ধে সাত হাজার সৈন্যের এক বাহিনীর নেতৃত্ব দেন এবং বীরত্ব ও সাহসিকতা প্রদর্শন করে ইংরেজদের পরাস্ত করেন। সেই সতের বছর বয়সে যে শহীদ টিপু সুলতান ইসলামের দুশমনের বিরুদ্ধে হাতিয়ের তুলে নেন বেসাল শরীফ (শাহাদাৎ বরণ)-এর আগ পর্যন্ত উনার সেই হাতিয়ার বীরত্বের উজ্জ্বল নমুনা হয়ে থাকে।

শহীদ টিপু সুলতান ব্যবহৃত কামান
শহীদ টিপু সুলতান শুধু একজন শাসকই ছিলেন না,একজন আমলদার আলেমও ছিলেন। মুজাহিদে মিল্লাত হযরত শহীদ টিপু সুলতান ছিলেন অন্তন্ত দৃঢ় ও বিশুদ্ধ আকীদার মুসলমান।সুন্নাতে নববীর অনুসরণে ছিলেন অনুপম দৃষ্টান্ত। বর্তমান কালে বিভিন্ন সময়ে উনার নামে প্রদর্শিত ফটো কশ্মিনকালেও তাঁর ছবি নয়। কারণ উনার মুখাবয়ব ছিল ঘন শ্মশ্রুমন্ডিত। সাত-আট বছর বয়সে একদল শিশুর সাথে উনাকে দেখে জৈনিক দরবেশে উনারকে কাছে ডেকে নেন এবং ভবিষ্যত শাসক হওয়ার সুসংবাদ দিয়ে উনার কাছ থেকে ওয়াদা নেন যে, তিনি শাসক হওয়ার পর ঠিক এই জায়গায় এই জায়গায় একটি শানদার মসজিদ নির্মাণ করবেন। শাসক হওয়ার পর ওয়াদা মাফিক তিনি মসজিদে আলা নামে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন এবং ১২০৪ হিজরী মোতাবেক ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে নিয়মতান্ত্রিকভাবে এর উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে তিনি দেশের ওলামা-মাশায়েখ এবং বুযুর্গানে কেরামগণকে দাওয়াত দেন। এবং ঘোষণা করেন,আজকের উদ্বোধনী দিনে সেই ব্যক্তি নামাজের ইমামতি করবেন যিনি সাহেবে তারতীব অর্থাৎ বালেগ হওয়ার পর জীবনে কখনো নামাজ কাজা হয়নি। কিন্তু কি আশ্চর্য ! কেউই তখন সামনে অগ্রসর হয়নি। অবস্থা দেখে শহীদ টিপু সুলতান তিনি নিজেই নামাজের ইমামতি করেন এবং বলেন "আলহামদু লিল্লাহ, আমি সাহেবে তারতীব।"

সারা জীবনে অব্যাহতভাবে যুদ্ধে লিপ্ত থাকা সত্ত্বেও কখনো উনার নামাজ কাযা হয়নি দেখে উপস্থিত লোকজন যারপর নাই হয়রান হয়ে যান।

শহীদ টিপু সুলতান নির্মিত একটি মসজিদ
ইতিহাসের অকুতোভয় বীর সেনানী শহীদ টিপু সুলতান তিনি প্রতিনিয়ত অধিক পরিমাণে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতেন। উনার অনুপম লজ্জাশীলতা সম্পর্কে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, উনার দু'পায়ের টাখনু, হস্তদ্বয় এবং মুখমন্ডল ব্যতীত গোটা শরীরই আবৃত থাকত। কখনও তিনি কারো সামনে অন্য কোন অঙ্গ অনাবৃত করতেন না।

একবার নেজাম ও মারাঠা বাহিনী তানগবাদড়া সাগরের পাড়ে সমবেত হয় শহীদ টিপু সুলতান   বাহিনীর ওপর আক্রমণ করার জন্য। শহীদ টিপু সুলতান ছিলেন সমুদ্রের অপর পাড়ে এবং সে সময় সমুদ্র ছিল ভংকর রকম উত্তাল। সাগরের উত্তালতা দেখে উনার হযরত আমর ইবনুল আস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ও নীল দরিয়ার ঘটনার কথা মনে পড়ে এবং তিনি ভাবেন, সাচ্চা মুসলমানের জবানে মহান আল্লাহ পাক তিনি এখনো তাছীর রেখেছেন। এই বলে তিনি আল্লাহ পাক উনার কাছে কায়মনোবাক্যে দু'আ করেন এবং উনার আদেশে মুজাহিদরা সমুদ্রে একুশবার গোলা ছোঁড়ে। এর কিছুক্ষণ পর সমুদ্রের উত্তালতা থেমে যায়। শহীদ টিপু সুলতান উনার কারামত দেখে মুজাহিদরা তাকবীর ধ্বনি দিয়ে দুশমনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

শহীদ টিপু সুলতান ছিলেন একজন ইলম জ্ঞান প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন জ্ঞান আকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। জাওয়াহিরুল কোরআন(পবিত্র কোরআনের মুক্তামালা), যাদুল মুজাহিদীন (মুজাহিদের পাথেয়),মুফাররেহুল কুলুব(আত্মার প্রশান্তি) এসব প্রখর জ্ঞান সমৃদ্ধ কিতাবাদী উনারই একান্ত তত্ত্বাবধানে রচিত হয়। শহীদ টিপু সুলতান ছিলেন হিন্দুস্তানের এক বিরল ব্যক্তিত্বসম্পন্ন শাসক। ভারত উপমহাদেশে তিনিই সর্বপ্রথম উর্দু পত্রিকা প্রকাশ করেন। 'ফাতহুল মুজাহিদীন' নামে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকাটি তার তত্ত্বাব্ধানে প্রকাশিত হত এবং এতে মুজাহিদদের দায়িত্ব ও করণীয় সম্পর্কে উল্লেখ থাকত।

আন্তর্জাতিক বিষয়েও তিনি বিচক্ষণতার পরিচয় দেন। তিনি উনার শাসনাকালীন সময়ে ফ্রান্সের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেন। ইংরেজ বীরোধিতা তখন দু'টি দেশকে একই প্লাটফর্মে নিয়ে আসে। সে সময় তিনি আফগানিস্তানের তৎকালীন বাদশাহকেও আপন বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন।

A flintlock blunderbuss, built for Tipu Sultan in Seringapatam, 1793–94.
ইংরেজরা একমাত্র তার প্রতিরোধের কারণেই গোটা হিন্দুস্তান কব্জা করতে ব্যর্থ হচ্ছিল। একারণে তারা তাঁর বিরুদ্ধে মরিয়া হয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। হাজার হাজার লোককে গাদ্দারে পরিণত করে। মহীশুর বাহিনীর সাথে ইংরেজ বাহিনীর ফয়সালাকারী যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৭৯৯ সালের মে মাসে। ৪ মে ফজরের নামাজ আদায় করে শহীদ টিপু সুলতান শত্রু বাহিনীর মোকাবেলায় অবতীর্ণ হন। গাদ্দার পরিবেষ্টিত হয়ে উনাকে যুদ্ধ করতে হয়। এমনকি উনার ব্যক্তিগত ও খাস খাদেম গোলাম রাজা খানও তার সাথে চরম গাদ্দারী করে। উনার কাছে পানি থাকা স্তত্বেও সে সুলতাকে পানি দিতে অস্বীকার করে এবং সুলতান সারা দিন পানির পিপাসায় ছটফট করেন। এই গাদ্দারই উনাকে দুশমনের হাতে আত্মসমর্পনের কুপরামর্শ দেয়। সে সময় তাকে লক্ষ করেই শহীদ টিপু সুলতান সেই বিখ্যত উক্তিটি করেন- "আমার কাছে সিংহের একদিন জীবন শিয়ালের শত বছরের জীবনের চেয়ে উত্তম।"

হযরত শহীদ টিপু সুলতান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আমলের একটি দুর্গ
সকালে অব্যাহত লড়াইয়ে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। আসমানের বাসিন্দারা আল্লাহর এই মকবুল বান্দাকে ইস্তেকবাল করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। বিকেলের কোন এক সময় মহীশুরের এক গাদ্দার ইংরেজদেরকে ইশারা করে বলে দেয় ইনিই হলেন শহীদ টিপু সুলতান । তৎক্ষণাৎ দুশমনেরা বন্দুকের সকল নল তার দিকে তাক করে এবং চতুর্দিক থেকে অবিরাম গোলা বর্ষণ হতে থাকে। একটি গুলি এসে তার বুকে বিদ্ধ হয় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় একজন সৈনিক তার কোমরে ঝুলানো হীরা খচিত শমসীর খুলে নিতে চাইলে তার আত্মমর্যাদায় আঘাত লাগে,তখন তিনি তার সকল শক্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন এবং তলোয়ার দিয়ে তার উপর আঘাত করেন।সে বন্দুকের সাহায্যে আঘাত প্রতিহত করলেও অন্য একজন ইংরেজ সৈনিক এতে প্রাণ হারায়। সে সময়ে নিকটে অবস্থিত অন্য একজন ইংরেজ সৈনিক তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তার কানে গিয়ে তা আঘাত করে। এই গুলিতে শহীদ টিপু সুলতান শাহাদাত বরণ করেন, সেই সাথে হিন্দুস্তানের আযাদীর সূর্যও অস্তমিত হয়। সে দিনটি ছিল ১৭৯৯ ইংরেজী সালের ৪ ই মে।

পরের দিন ৫ মে উনাকে গোসল ও কাফন দেওয়া হয়। লক্ষ লক্ষ হিন্দু-মুসলমান উনাকে শেষ বারের মত দেখার জন্য ভীড় করে। হিন্দু মহিলারা মাথায় মাটি নিক্ষেপ করে শোক প্রকাশ করতে থাকে। লালবাগে পৌঁছানোর পর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শহরের কাজী জানাজার ইমামতি করেন। নামাযান্তে মহীশুর রণক্ষেত্র থেকে আট মাইল দূরে সেরিঙ্গা পট্টম নামক স্থানে পিতা হায়দার আলীর কবরের পাশে উনাকে দাফন করা হয়।

উনার সম্মানিত বাবা-মায়ের মাযারের পাশাপাশি শহীদ টিপু সুলতানকে শায়িত করা হয় ।

এভাবেই ভারত উপমহাদেশের একজন স্বাধীনচেতা, দেশপ্রেমিক, লড়াকু সৈনিক ও অকুতোভয় আলেম শাসকের জীবনাবসান হয়।

গ্রিক পুরাণের বিশিষ্ট নারী শিকারী



গ্রিক পুরাণের বিশিষ্ট নারী শিকারী। আমার মনে হয়েছে গ্রিক পুরাণের অন্যান্য চরিত্রদের তুলনায় আটালান্টার জীবনকাহিনীই সব চেয়ে বিচিত্র । শিশুবয়েসে মাবাবা কর্তৃক পরিত্যক্ত হয়ে আরণ্যক পরিবেশে বেড়ে ওঠা ... তারপর অসম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে এক দানবীয় শূকর হত্যা; অতঃপর পিতামাতার সঙ্গে মিলন এবং বিবাহ ... শেষাবধি অবশ্য অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে দেবী আর্টেমিসের অভিশাপে সিংহীতে রূপান্তরিত হওয়া -এ সমস্ত মিলিয়ে আটালান্টা উপাখ্যানটি গ্রিক পুরাণে এক বিশিষ্ট স্থান দখল করে আছে । গ্রিক মিথীয় জগতে দেবদেবীর ইচ্ছাই যে চূড়ান্ত -আটালান্টা উপাখ্যানটি আমাদের সেকথাই মনে করিয়ে দেয়। তবে সব কিছু ছাপিয়ে আটালান্টার অদম্য সাহস ও শক্তি যেন নারীর সহজাত শক্তির প্রতিই ইঙ্গিত করে ...
গ্রিসের মানচিত্রে আর্কেডিয়ার অবস্থান । আর্কেডিয়া গ্রিসের একটি অঞ্চল হলেও আর্কেডিয়া বলতে ইংরেজি ভাষায় বোঝায় imagined place of rural bliss: a place in which people are imagined or believed to enjoy a perfect life of rustic simplicity আর্কেডিয়া শব্দটি বাংলা ভাষায় একেবারে অপরিচিত নয়। কবি রফিক আজাদ- এর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম ‘চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া’।
অনেক অনেক দিন আগের কথা। আর্কেডিয়া রাজ্যটি আইয়াসুস নামে একজন রাজা শাসন করতেন। রাজা আইয়াসুস-এর স্ত্রীর নাম ছিল ক্লাইমেনে। যা হোক। রাজার বড় পুত্রসন্তানের শখ ছিল। তথাপি একটি কন্যাশিশু জন্মাল। রাজাকে প্রগাঢ় হতাশা গ্রাস করে। ক্রোধান্বিত রাজা অনুচরদের নির্দেশ দিলেন: যাঃ, ওটাকে আর্কেডিয়ার অরণ্যপ্রান্তরে ফেলে আয়। ওটাকে নেকড়েরা খেয়ে ফেলুক! (রাজা আইয়াসুস এবং এবং উপকথার রচয়িতাগন পুরুষ। কাজেই তারা এমন নির্মম সিদ্ধান্ত নিতেই পারে । তবে রানী ক্লাইমেনের এতে সম্মতি ছিল কি?) ... যা হোক। দেবী আর্টেমিস দূর থেকে সবই দেখছিলেন। তিনি একটি মা-ভালুক পাঠালেন আর্কেডিয়ার অরণ্যপ্রান্তরে । তারই দুধ খেয়ে বাঁচল শিশুটি। প্রচন্ড শীতে পেল রোমশ উষ্ণতা। আর্কেডিয়ার অরণ্যপ্রান্তরে ঘুরে বেড়ায় দক্ষ ব্যাধের দল। তাদের মাঝেই বেড়ে উঠতে লাগল শিশুকন্যাটি। তারা শিশুকন্যার নাম রাখল আটালান্টা। কিংবা নাম দেবী আর্টেমিসও রাখতে পারেন।
কুমারী আটালান্টা দেবী আর্টেমিস এর মতোই দক্ষ শিকারী হয়ে উঠল।
আটালান্টা।

আটালান্টার সৌন্দর্য ও সাহস দেখে ব্যাধেরা অবাক। দ্রুত দৌড়াতে পারে আটালান্টা। যে কাউকে হারাতে পারে লড়াইয়ে । বিখ্যাত সব বীরদেরও হারিয়েছে। এমন কী ট্রয়যুদ্ধের গ্রিকবীর আকিলিস- এর বাবা পেলাসকেও। centaurs হল গ্রিক উপকথার অশ্বমানব। দুটি অশ্বমানব আটালান্টা কে ধর্ষন করতে উদ্যত হলে তাদের হত্যা করেছিল। মেষচর্মের জন্যে গ্রিক বীর জেসন-এর অভিযানের কথা আমরা জানি । এদের সঙ্গে আটালান্টা ছিল। অবশ্য কোনও কোনও ভাষ্য মতে নারী বলে জেসন তাকে অভিযানে নেয়নি!
আজীবন কুমারী থাকবার ব্রত ছিল আটালান্টার।
এর কি কারণ?
মা ভালুকের দুগ্ধ পান করা অরণ্যচারী ব্যাতিক্রমী শৈশব?
তাহলে তো বলতেই হয় গ্রিক মিথের রচয়িতাগন মানবচরিত্র সম্বন্ধে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।

কালিদোনিয় শূকর শিকার
আটালান্টা কালিদোনিয় শূকর শিকারে অংশ নিয়ে বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল। কালিদোনিয় রাজা অনিউস একবার দেবী আর্টেমিস-এর উদ্দেশ্যে পশু উৎসর্গ করতে ভুলে গিয়েছিলেন। আর্টেমিস প্রতিশোধ নিতে কালিদোনিয়ায় বিশাল এক শূকর পাঠালেন । শূকরটি কালিদোনিয় ফসলের ক্ষেত আঙুরের ক্ষেত তছনছ করল। মানুষ প্রাণভয়ে নগরে আশ্রয় নিল। ফসলের অভাবে তারা ক্ষুধার্ত রইল। রাজা অনিউস উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলেন। রাজা অনিউস ছেলে মেলিয়াজার। রাজা মেলিয়াজার কে শূকর হত্যা করতে নির্দেশ দিলেন । মেলিয়াজার বলল, আমার সঙ্গে কয়েকজন বীর শিকারী দিন। তৎকালীন সেরা শিকারীরা মেলিয়াজার এর সঙ্গে যোগ দিল। তাদের সঙ্গে আটালান্টাও ছিল। মেলিয়াজার দেখামাত্রই আটালান্টার প্রেমে পড়ে গেল। শিকার শুরু হলে আটালান্টা প্রথমেই শূকরটিকে তীর ছুড়ে আহত রক্তাক্ত করে। এতে দলের পুরুষ শিকারী যেমন বিস্মিত হল তেমনি লজ্জ্বাও পেল। যা হোক। শেষ পর্যন্ত মেলিয়াজার শূকরটিকে হত্যা করতে সমর্থ হয়। এতে অন্যান্য পুরুষ শিকারীরা ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠে। আটালান্টাই প্রথম শূকরের রক্ত ঝরিয়েছে বলে নিজের পুরস্কারটি মেলিয়াজার ভালোবেসে আটালান্টাকে দিল। এতে মেলিয়াজার- এর দুই মাতুলসহ পুরুষ শিকারীরা প্রচন্ড ক্রোধান্বিত হয়ে উঠল। মেলিয়াজার- এর দুই মাতুল আটালান্টাকে রূঢ়ভাবে আঘাত করে। মেলিয়াজার তাদের হত্যা করে। ভাইয়ের মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ হয়ে মেলিয়াজার- এর মা মেলিয়াজার কে হত্যা করে!
দেবী আর্টেমিস এভাবে প্রতিশোধ নিলেন!
গ্রিক পুরাণের অকস্মাৎ ভায়োলেন্ট বাঁক বদল আমাদের বিস্মিত করে। নাট্যকার উইলিয়াম শেকসপিয়ার থেকে আরম্ভ করে হালের হলিউডি মুভির কাহিনীর যে sudden twist আমাদের আকৃষ্ট করে তার অন্যতম কারণ কি গ্রিক মিথ? মাঝেমাঝে আমার মনে হয় গ্রিক মিথই যেন ইউরোপীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বের অন্যান্য সংস্কৃতি থেকে পৃথক করেছে!

দেবী আর্টেমিস। গ্রিক পুরাণের আটালান্টা উপাখ্যানে বারবার ফিরে আসতে দেখি।
আর্কেডিয়া রাজ্যের রাজা আইয়াসুস তার বিখ্যাত কন্যাকে অগ্রাহ্য করতে পারলেন না। অথচ একদিন তিনিই বলেছিলেন, যাঃ, ওটাকে আর্কেডিয়ার অরণ্যপ্রান্তরে ফেলে আয়। ওটাকে নেকড়েরা খেয়ে ফেলুক! যা হোক। আটালান্টা আর্কেডিয়ার রাজবাড়িতে ফিরে এল। মাবাবার সান্নিধ্যে দিন কাটতে লাগল তার। এবার ঘটল এক বিচিত্র ঘটনা। রাজা আইয়াসুস মেয়ের বিবাহ দেবেন। ওদিকে আজীবন কুমারী থাকবার ব্রত ছিল আটালান্টার। কিন্তু রাজা আইয়াসুস তার সিদ্ধান্তে অনঢ়। পরে অবশ্য আটালান্টা বিয়ে করতে রাজি হল। তবে দুটো শর্ত আছে।
কি শর্ত?
যে আমাকে দৌড় প্রতিযোগিতায় পরাজিত করতে পারবে তাকেই আমি বিয়ে করব।
বেশ। আর?
দৌড় প্রতিযোগিতায় যে হেরে যাবে তাকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হবে ।
ঠিক আছে।
গ্রিসের অনেক বীর দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এল।
সবাই তারা হেরে গেল।
সেই সঙ্গে জীবন দিল।

হিপপোমেনেস এবং আটালান্টার দৌড় প্রতিযোগিতা
তখনকার দিনে হিপপোমেনেস নামে গ্রিসে এক সাহসী বীর ছিল। সে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং এ বিষয়ে দেবী আর্টেমিসের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। দেবী আর্টেমিস হিপপোমেনেস কে সাহায্য করবেন বলে আশ্বাস দিলেন। দেবী আর্টেমিস হিপপোমেনেস কে তিনটি সোনালী আপেল দিলেন। তারপর বললেন, দৌড়ানোর সময় তুমি পথের ওপর একটা একটা করে আপেল ছুড়ে ফেলবে। পথে সোনালী আপেল দেখে আটালান্টা না থেমে পারবে না। সেই ফাঁকে তুমি দৌড়ে শেষ প্রান্তে পৌঁছে যাবে।
আপনি যা বললেন, আমি তাইই করব। বলল হিপপোমেনেস।
প্রতিযোগিতার শুরুতে আটালান্টা হিপপোমেনেস কে তেমন পাত্তা দেয়নি। যা হোক। দৌড় শুরু হল। হিপপোমেনেস একটা একটা করে আপেল ছুড়ে মারল ; পথে সোনালী আপেল দেখে আটালান্টা না থেমে পারল না।
সমাপ্ত রেখায় পৌঁছানোর পূর্বে শেষ আপেল ছুড়ে মারল হিপপোমেনেস।
সেটিও কুড়িয়ে নিতে আটালান্টার দেরি হয়ে গেল।
দৌড় প্রতিযোগিতায় হিপপোমেনেস বিজয়ী হল।
হিপপোমেনেস এবং আটালান্টার বিয়ে হল।

আটালান্টা; শিল্পীর তুলিতে
বিয়ের পর হিপপোমেনেস এবং আটালান্টার জীবন সুখে কাটতে লাগল । তবে সত্যিকারের সুখ বলতে যা বোঝায় আটালান্টার ক্ষেত্রে
তেমনটি কিন্ত হল না। কেন? বলছি। হিপপোমেনেস যত বড় বীর হোক- তার স্মরণশক্তি দূর্বল ছিল। সে দেবী আর্টেমিস-এর অবদান বেমালুম ভুলে গেল। দেবী ক্রোধান্বিত হয়ে উঠলেন। তিনি প্রতিশোধ নেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিলেন। হিপপোমেনেস এবং আটালান্টা যখন দেবতা জিউস এর উপাসনালয়ে প্রার্থনা করছিল ... Artemis inflamed the couple with such sexual passion that they led them to make love inside the temple. This was, of course, sacrilege (অধর্মাচরণ). Zeus, in his turn, got enraged and transformed them into lions. তৎকালীন বিশ্বাস অনুযায়ী সিংহ কেবলি চিতাবাঘের সঙ্গে মিলিত হতে পারত। কাজেই বাকি জীবন হিপপোমেনেস এবং আটালান্টা পৃথকই রইল!

আসলে ইউরোপের উন্নত শিক্ষাসংস্কৃতির মূলে গ্রিক মিথের গভীর অবদান রয়েছে। কেননা, গ্রিক উপকথার কেন্দ্রে রয়েছে মানবীয় প্রবৃত্তি। মধ্যযুগের একপেশে ও সংকীর্ণ খ্রিষ্টীয় শিক্ষার দাপটে ইউরোপ সুমহান গ্রিসিয় ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। পঞ্চদশ-ষোড়শ শতকের ইউরোপীয় রেঁনেসা আবার গ্রিসিয় ধ্রুপদি ঐতিহ্য কে ফিরিয়ে এনেছিল। যা হোক। গ্রিক মিথ আজও ইউরোপীয় শিল্পসাহিত্য এবং চলচ্চিত্রে গভীর প্রভাব রেখে চলেছে। আজ থেকে ২৫০০ বছর আগেই গ্রিক মিথরচয়িতারা কল্পনার বলগা হরিণ ছুটিয়ে মানুষের অবাধ কল্পনার দ্বারটি খুলে দিয়েছিল। সেই অনামা গ্রিক মিথরচয়িতাদের প্রতি রইল আমাদের সশ্রদ্ধ সালাম।




Welcome to "http://apnarbhagya.blogspot.in/"